মরে গেলেও নির্বাচন বর্জন করবো না, প্রয়োজনে লাশ নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাবো: ড. কামাল

মরে গেলেও নির্বাচন বর্জন করবো না বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, হামলা চালিয়ে আমাদের কাউকে মেরে ফেলা হলে প্রয়োজনে লাশ নিয়ে আমরা ভোট কেন্দ্র যাবো। আজ বিকেলে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের ওপর সরকারি দলের নেতাকর্মীরা হামলা করছে জানিয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, হামলা ও পুলিশি গ্রেফতারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে আমরা দু’দিনের সময় দিয়েছে। আমরা বলেছি, দেশে সরকারি দলের লোকেরা যে সহিংসতা করছে তার বিরুদ্ধে একদিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে দু’দিনের মধ্যে এদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ দেখতে চাই।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধানে নির্বাচন কমিশনকে যথেষ্ট ক্ষমতা দেয়া আছে। কেন তারা সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করছেন না তাদের আপনারা (সাংবাদিক) জিজ্ঞাসা করেন।

ড. কামাল আরও বলেন, ভোট প্রার্থীদের ওপর ও তাদের সমর্থকদের ওপর এমন আক্রমণ আগে কখনো দেখিনি। তিনি বলেন, ঢাকা শহরে কোথায়ও ধানের শীষের প্রার্থীর পোস্টার লাগাতে দিচ্ছে না। সব জায়গায় সরকারি দলের লোকদের পোস্টারে রয়েছে, এমন চিত্র কোথায়ও দেখিনি।

বিএনপির ৩ শীর্ষ নেতা কারাগারে

কুমিল্লা-১০ (সদর দক্ষিণ, লালমাই, নাঙ্গলকোট) আসনটি দেশের বৃহৎ সংসদীয় আসন, জেলার গুরুত্বপূর্ণ আসন এটি। পূর্বে চৌদ্দগ্রাম, ছাগলনাইয়া, দক্ষিণে সেনবাগ উপজেলা, পশ্চিমে মনোহরগঞ্জ, লাকসাম, বরুড়া উপজেলা, উত্তরে আদর্শ সদর উপজেলা।

এ আসনটিতে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ ভোটার ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। চলতি বছরের ১ অক্টোবর নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াকে ডিবি পুলিশ আটক করে হাতিঝিল থানায় একটি মামলা গ্রেফতার দেখালো পুলিশ।

চৌদ্দগ্রাম থানার দুইটি মামলায় মনিরুল হক চৌধুরী হাইকোর্ট থেকে অন্তবর্তীকালীন জামিনে ছিলেন। গত ২৪ অক্টোবর জেলা জজ আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণ করেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম সমন্বয়ক কুমিল্লা ১০ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে আরও দুইটি মামলায় গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন দাখিল করা হয়েছে।

জেলার নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ সন্ত্রাস বিরোধী আইনে এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনের ওই দুটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য গত মঙ্গলবার পৃথক দুইটি আবেদন করে।

বৃহস্পতিবার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মনিরুল হক চৌধুরীর পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল মোতালেব মজুমদার।

জানা যায়, জেলার নাঙ্গলকোট থানায় গত ২১ আগস্ট বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি এবং ৮ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাস বিরোধী আইনের একটিসহ পৃথক ২টি মামলায় মনিরুল হক চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য ওই থানার পুলিশ গত মঙ্গলবার কুমিল্লার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ৫নং আমলী আদালতে পৃথক দুইটি আবেদন দাখিল করে।

মনিরুল হক চৌধুরীর পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল মোতালেব মজুমদার বলেন, ওই আদালতের বিচারক রোকেয়া বেগম আগামী ২৬ নভেম্বর মনিরুল হক চৌধুরীর উপস্থিতিতে পুলিশের ওই দুইটি আবেদনের শুনানীর তারিখ ধার্য করেছেন। তবে এসব মামলার এজাহারে তার নাম নাই।

তিনি আরও বলেন, ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি জেলার চৌদ্দগ্রামে দুর্বৃত্তদের পেট্রোল বোমা হামলায় বাসের ৮ যাত্রী নিহতের ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার দুইটি মামলায় মনিরুল হক চৌধুরী হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বতীকালীন জামিনে ছিলেন।

গত ২৪ অক্টোবর জেলা জজ আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণ করেন। পরে ওই দুটি মামলায় গত ৪ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে তার জামিন আদেশ হয়। এরপর জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশের সন্ত্রাস বিরোধী ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের পৃথক দুটি মামলায় গ্রেফতার দেখানোর কারণে জেলে রয়েছেন।

কুমিল্লা ১০ আসনের সাবেক এমপি ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আব্দুল গফুর ভূঁইয়াকে হাইকোর্ট এলাকা থেকে আটক করে ডিবি পুলিশ। (শনিবার ১৫ নভেম্বর) দুপুর ২টা ঢাকা হাইকোর্ট থেকে আটক করা হয়।

জানা যায় গত বৃহস্পতিবার নাঙ্গলকোট থানা পুলিশের দায়ের করা মামলা জামিন নিতে আইনজীবীদের সাথে কথা বলে নামাজ পড়তে যায়, নামাজ পড়ে বের হলে হাইকোট প্রাঙ্গণ থেকে ডিবি পুলিশ আটক করে।

ইসিতে দেয়া ঐক্যফ্রন্টের ৮ পৃষ্ঠার অভিযোগে যা রয়েছে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনার জন্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বৈঠকে ঢাকাসহ ৩০ জেলায় পুলিশি হয়রানি ও আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের হাতে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের নির্যাতন বন্ধে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত ৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে বলা হয়, রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর কদমতলী বিএনপির সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি মীর হোসেন মীরুর বাড়িতে গোয়েন্দা বিভাগের একজন সহকারী পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে হানা দেয় ও খুঁজতে থাকে। এ সময় ধানের শীষে প্রচার চালানো যাবে না বলে হুমকি দেয় তারা। অন্য নেতাকর্মীদের বাসায়ও তল্লাশির নামে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে পুলিশ। এছাড়া আগামী নির্বাচনে ভোট থেকে বিরত রাখার জন্য পুলিশ অস্ত্রতুলে হুমকি দেয়।

ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আফরোজা আব্বাস ১২ ডিসেম্বর জনসংযোগে বের হলে আকস্মিক আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আক্রমণ চালায় ও ধানের শীষের লিফলেট কেড়ে নেয়া হয়। এবং তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার রফিকুল ইসলাম বিএনপি নেতা রিপন ও সিরাজসহ অনেকেই গুরুতর জখম হয়।

নিউমার্কেট থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজি জাহাঙ্গীর হোসেন পাটোয়ারীকে সাদা পোশাকে পুলিশ আটক করে নিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

একইভাবে মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবদুল হামিদের বাসায় তল্লাশির নামে হামলা চালায় পুলিশ। নির্বাচন কমিশন এসব দেখেও নীরব ভূমিকা পালন করছে। সুষ্ঠু নির্বাচন করার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তাসহ সব থানার ওসিদের প্রত্যাহার করলে নির্বাচনের পরিবেশ ফিরে পাওয়া যাবে বলে চিঠিতে বলা হয়।

রোববার চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানা বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষের প্রার্থী আবদুল মান্নানসহ বিএনপি নেতাকর্মীরা গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে পুলিশ বাধা দেয়। এমনকি গুলিও করা হয়েছে বলে চিঠিতে বলা হয়।

কুমিল্লা জেলা শহরে বিএনপির নেতাকর্মীরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে শহরে বের হলে পুলিশসহ আওয়ামী লীগের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা তাদেরও বাধা দেয়। বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। এতে বিএনপির পাঁচজন নেতাকর্মী গুরুতর জখম হন। এ সময় তিনজন সমর্থকের দোকানে ভাঙচুর করা হয়। আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করা হলে, নৌকা মার্কা ছাড়া এলাকায় কেউ থাকতে পারবে না বলে পুলিশ সুপার অফিস থেকে জানানো হয়।

জামালপু-৩ আসনের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলসহ নেতাকর্মীরা হযরত শাহ কামাল (রা.) এর মাজার জিয়ারত করতে গেলে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ১০-১২ জন নেতাকর্মীকে গুরুতর জখম করে।

ভোলা-৪ আসনের প্রার্থী নাজিম উদ্দিন আলমের গাড়ি ভাঙচুর করে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। সেখানে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে।

চট্টগ্রাম জেলায় রোববার সন্ধ্যায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম জেলা বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর বাড়িতে নির্বাচনী সভা চলছিল। সভা থেকে বের হওয়ার পর ২৫ জনের অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। চট্টগ্রাম-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থীকে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে গ্রেফতার করা হয়।

শেরপুর জেলার শ্রীবর্দী উপজেলা বিএনপির নির্বাচনী পথ সভায় পুলিশ আক্রমণ চালিয়ে পণ্ড করে দেয়। গতকাল ফরিদপুর শহরে ৪ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। শহরের ২/৩ নং ওয়ার্ডে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। এ ছাড়া একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে ফরিদপুর, নেত্রকোনা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ময়মনসিংহ, ঠাকুরগাঁও, নোয়াখালী, রাজশাহী, যশোর, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, ঝিনাইদহ, নরসিংদী, নাটোর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, জয়পুরহাট, মেহেরপুর, রংপুর, পাবনা, সাতক্ষীরা, কিশোরগঞ্জ, ফেনী, সিরাজগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলায়।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

খালেদা জিয়ার জামিন বহাল

কুমিল্লার বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় খালেদা জিয়াকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।

সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ৬ ডিসেম্বর এ মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে আগামী ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত ‘লিভ টু’ আপিল (সিপি) দায়ের করতে বলেন।

গত ২৮ নভেম্বর কুমিল্লার বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় খালেদা জিয়াকে জামিন দেন হাইকোর্ট। এদিন বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এসএম মজিবুর রহমানের বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করে রায় দেন।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশেষ জজ আদালত ১-এর বিচারক কেএম সামছুল আলম এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন। এর বিরুদ্ধে জামিন চেয়ে ১৫ অক্টোবর হাইকোর্টে আপিল করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। ২৪ অক্টোবর আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে কেন তাকে জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে রুল জারি করেন আদালত। এই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি করে হাইকোর্ট তার জামিন মঞ্জুর করে রায় দেন।

পরে রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো.বশিরউল্লাহ জানান, এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।

২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সদরের হায়দারপুল এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরদিন পুলিশ বাদী হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনসহ ২০ দলের স্থানীয় ৩২ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা করে। মামলায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করা হয়।

১৪ দফা দাবি দিয়ে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার ঘোষণা

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলে প্রতিহিংসার রাজনীতি দূরীকরণ, নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা ও বিকেন্দ্রীকরণ, দুর্নীতি দমন ও সুশাসনসহ ১৪টি বিষয়ে আমূল পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর মতিঝিলের হোটেল পূর্বাণী ইন্টারন্যাশনালে সংবাদ সম্মেলন করে এই প্রতিশ্রুতিসহ ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। ইশতেহার ঘোষণা করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

দুই দফা তারিখ পেছানোর পর অবশেষে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার ঘোষণা চলছে। রাজধানীর পূর্বাণী হোটেলে ইশতেহার ঘোষণা শুরু করেন নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না। এর আগে সূচনা বক্তব্য দেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেন।

ঘোষণার মঞ্চে উপস্থিত অন্যদের মধ্যে উপস্থিত আছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরা

ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার নিয়ে যা বললেন আ’লীগ নেতা

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার একটি তামাশা ও হাস্যকর যেখানে যুদ্ধপরাধীদের উত্তরসূরিদের মনোনয়ন দিয়েছে এবং সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, নৈরাজ্য কার্যক্রম অব্যহত আছে তারা কি করে এই সব দাবী করছে। নির্বাচনের পর তারা এ দাবি বাস্তবায়ন করবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারান সম্পাদক আব্দুর রহমান।

সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেল্পনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এসমউয় তিনি বলেন, যুদ্ধপরাধীদের বিচার চলমান থাকবে সহিংসতা করবে না এই গুলা হস্যাকর, সব অপকৌশল।

এর আগে, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলে প্রতিহিংসার রাজনীতি দূরীকরণ, নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা ও বিকেন্দ্রীকরণ, দুর্নীতি দমন ও সুশাসনসহ ১৪টি বিষয়ে আমূল পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর মতিঝিলের হোটেল পূর্বাণী ইন্টারন্যাশনালে সংবাদ সম্মেলন করে এই প্রতিশ্রুতিসহ ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। ইশতেহার ঘোষণা করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

যা রয়েছে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর মতিঝিলের হোটেল পূর্বাণী ইন্টারন্যাশনালে সংবাদ সম্মেলন করে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।

ইশতেহারে জাতীয় ঐক্য গড়া, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানসহ ১৪ প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

প্রতিশ্রুতির মধ্য রয়েছে- জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সর্বদলীয় সত্যানুসন্ধান ও বিভেদ নিরসনে কমিশন গঠন করা হবে, হত্যা ও গুম পুরোপুরি বন্ধ করা হবে।

ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন বাতিল করা হবে।

নির্বাচনকালীন সরকারের বিধান তৈরি করা হবে।

পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকা যাবে না।

পুলিশ ও সামরিক বাহিনী ব্যতীত সরকারি চাকরিতে প্রবেশের কোনো বয়সসীমা থাকবে না।

সরকারের দুর্নীতি তদন্ত করে বিচার করা হবে।

জেলা পরিষদ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবে।

পিএসসি জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হবে।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি হবে ১২ হাজার টাকা। প্রথম বছরে গ্যাস বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে না।

প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরাম নেতা সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু প্রমুখ ও ড. রেজা কিবরিয়া প্রমুখ।

জনগণ ভোট দিতে না পারলে দেশ ভয়াবহতার দিকে যাবে: ড.কামাল

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে না পারলে দেশের অবস্থা ভয়াবহতার দিকে রুপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

তিনি বলেছেন, ‘জনগণের রুখে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে এক গণঅভ্যুত্থানের দিন হবে ৩০ ডিসেম্বর। ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার জনগণের ইশতেহার। জনগণের কল্যাণে, জনমতের ভিত্তিতে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণের ধারা অব্যাহত থাকবে। আমি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুরোধ করবো আপনারা আর বেআইনি আদেশ মানবেন না। ৩০ ডিসেম্বর জনগণ ভোট দিতে না পারলে দেশের অবস্থা ভয়াবহতার দিকে রুপ নিতে পারে।’

সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর পূর্বাণী হোটেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার ঘোষণার প্রাক্কালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রবীণ এই আইনজীবী বলেন, ‘দীর্ঘ এক যুগ পর বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল কিন্তু এই নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য হবে কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের নানা রকম পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ আমাদেরকে সংকিত করেছে।’

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন নামে যে প্রহসনটি হয়েছিল সেটা সংবিধানে বর্ণিত জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতার সাথে সাংঘর্ষিক। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই এই জনগণ এই রাষ্ট্রের মালিকানা হারিয়েছে। জনগণ যখন রাষ্ট্রের মালিক থাকে না তখন রাষ্ট্রের মালিক হয়ে পড়ে কায়েমী স্বার্থবাদী দেশি-বিদেশি নানা গোষ্ঠী। এর মাশুল দিতে হয়েছে এ দেশের মানুষকে। এই রাষ্ট্রটি মানুষের জন্য একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে উঠবে কিনা, সেটা নিশ্চিত হয়ে আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে যদি এই রাষ্ট্র জনগণের হাতে আবার ফেরত যায়। জনগণ তার মালিকানা ফিরে পায়। জনগণের সর্বাঙ্গীন কল্যাণ তখনই নিশ্চিত হতে পারে যখন সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই রাষ্ট্রের মালিক হবে জনগণ।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের মতো আমরাও বলতে চাই এই রাষ্ট্রের মেরামত প্রয়োজন। আগামী সাধারণ নির্বাচনের দিন, ৩০ ডিসেম্বর। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিশ্বাস করে, সেদিন দলে দলে, জনে জনে মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবে, ভোট দেবে। ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করে ভোটের অনিয়ম রুখবে, ভোট শেষ হবার পর নিজেদের ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়া দেখে বাড়ি ফিরবে। নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে এক গণঅভ্যুত্থানের দিন হবে ৩০ ডিসেম্বর।’

ড. কামাল আরও বলেন, ‘আজকের এই দিনটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জন্য যে, আজ আমরা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করছি। এটা জনগণের ইশতেহার ৷ জনগণের কল্যাণে, জনমতের ভিত্তিতে এটা তৈরি করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণের ধারা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ হবে গুম, খুন, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত শান্তি সুখের বাংলাদেশ।

সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখনও আশাবাদী, আশা করছি পরিশেষে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন বাংলার জনগণ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে। পুনরুদ্ধার হবে নিবিড় গণতন্ত্র।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

প্রতিদিনই আক্রান্ত হচ্ছেন প্রার্থী-সমর্থকরা, কি করছে নির্বাচন কমিশন?

বাংলাদেশে ৩০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনের আগে প্রচারাভিযান শুরু হবার প্রায় সাথে সাথেই প্রায় প্রতিদিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের ওপর প্রতিপক্ষের হামলার খবর।

এর মধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন, বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নরসিংদীতে মঈন খান, ঢাকায় মির্জা আব্বাস, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের নজরুল ইসলাম আজাদসহ বেশ কয়েকজন নেতার প্রচার মিছিল বা গাড়িবহরে হামলার খবর সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতা বা নির্বাচনী কর্মকান্ড আক্রান্ত হবার ঘটনা ঘটেছে নড়াইল, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ও ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় – এমন খবরও বেরিয়েছে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে।

একজন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ইতিমধ্যেই বলেছেন, মনে হচ্ছে পরিস্থিতি নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলছিলেন, এসব ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে নির্বাচন কমিশন।

“পুলিশকে এ নিয়ে কড়া নির্দেশ দেয়া হচ্ছে, দু-এক জায়গায় কিছু বদলি-টদলিও আমরা করেছি। আশা করছি ইনশাল্লাহ দু-একদিনের মধ্যেই এর একটা সমাধান হয়ে যাবে।” বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন মি. চৌধুরী।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াৎ হোসেন বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, “১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত যে কয়টি নির্বাচন হয়েছে – এর মধ্যে এ ধরণের ঘটনা ঘটেনি।”

“সিইসিকে দেখলাম যে তিনি দু:খ প্রকাশ করে কিছু কথা বলেছেন, মর্মাহত হয়েছেন, বিব্রত হয়েছেন। তাতে মনে হচ্ছে যে পরিস্থিতি নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে” – বলেন তিনি।

কিন্তু নির্বাচন কমিশন এসব হামলার ব্যাপারে কি করছে? কি ব্যবস্থা নিচ্ছে?

সবশেষ নোয়াখালী-১ আসনে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন গুলিবিদ্ধ হন। এর আগে শুক্রবার ঢাকায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের গাড়ি বহরে এবং তারও আগে নেত্রকোনায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মিছিলের ওপর হামলা হয়।

নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী স্বীকার করেন যে সহিংসতা থেকে বিরত থাকতে তারা রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন – কিন্তু তার পরও নির্বাচনী প্রচারের উত্তেজনায় কিছু ঘটনা ঘটে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “নির্বাচনী বিরোধ বা নির্বাচনী সহিংসতা – এগুলো নিরসনকল্পে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যারা আছেন – তারা ব্যবস্থা নেন। অভিযোগগুলোর ব্যাপারে ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি আছে – যাতে জেলা জজদের মতো বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তারা আছেন। কোন অভিযোগের কথা সেখানে কেউ ‘রেফার’ করলে তার তদন্ত হবে এবং তার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।”

কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে কি সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত নেয়া হয়েছে? এ প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এ ব্যাপারে প্রক্রিয়ার কথাই তুলে ধরেন।

“কোন ঘটনার তদন্ত না করে তো কোন ব্যবস্থা নেয়া যাবে না” – বলেন তিনি।

আমি এ নিয়ে কোন নেতিবাচক চিন্তা করতে চাই না। আমার বিশ্বাস এটা প্রশমিত হয়ে যাবে – বলেন নির্বাচন কমিশনার। সূত্র: বিবিসি।

প্রতিদিনই আক্রান্ত হচ্ছেন প্রার্থী-সমর্থকরা, কি করছে নির্বাচন কমিশন?

বাংলাদেশে ৩০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনের আগে প্রচারাভিযান শুরু হবার প্রায় সাথে সাথেই প্রায় প্রতিদিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের ওপর প্রতিপক্ষের হামলার খবর।

এর মধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন, বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নরসিংদীতে মঈন খান, ঢাকায় মির্জা আব্বাস, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের নজরুল ইসলাম আজাদসহ বেশ কয়েকজন নেতার প্রচার মিছিল বা গাড়িবহরে হামলার খবর সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতা বা নির্বাচনী কর্মকান্ড আক্রান্ত হবার ঘটনা ঘটেছে নড়াইল, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ও ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় – এমন খবরও বেরিয়েছে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে।

একজন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ইতিমধ্যেই বলেছেন, মনে হচ্ছে পরিস্থিতি নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলছিলেন, এসব ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে নির্বাচন কমিশন।

“পুলিশকে এ নিয়ে কড়া নির্দেশ দেয়া হচ্ছে, দু-এক জায়গায় কিছু বদলি-টদলিও আমরা করেছি। আশা করছি ইনশাল্লাহ দু-একদিনের মধ্যেই এর একটা সমাধান হয়ে যাবে।” বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন মি. চৌধুরী।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াৎ হোসেন বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, “১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত যে কয়টি নির্বাচন হয়েছে – এর মধ্যে এ ধরণের ঘটনা ঘটেনি।”

“সিইসিকে দেখলাম যে তিনি দু:খ প্রকাশ করে কিছু কথা বলেছেন, মর্মাহত হয়েছেন, বিব্রত হয়েছেন। তাতে মনে হচ্ছে যে পরিস্থিতি নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে” – বলেন তিনি।

কিন্তু নির্বাচন কমিশন এসব হামলার ব্যাপারে কি করছে? কি ব্যবস্থা নিচ্ছে?

সবশেষ নোয়াখালী-১ আসনে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন গুলিবিদ্ধ হন। এর আগে শুক্রবার ঢাকায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের গাড়ি বহরে এবং তারও আগে নেত্রকোনায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মিছিলের ওপর হামলা হয়।

নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী স্বীকার করেন যে সহিংসতা থেকে বিরত থাকতে তারা রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন – কিন্তু তার পরও নির্বাচনী প্রচারের উত্তেজনায় কিছু ঘটনা ঘটে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “নির্বাচনী বিরোধ বা নির্বাচনী সহিংসতা – এগুলো নিরসনকল্পে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যারা আছেন – তারা ব্যবস্থা নেন। অভিযোগগুলোর ব্যাপারে ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি আছে – যাতে জেলা জজদের মতো বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তারা আছেন। কোন অভিযোগের কথা সেখানে কেউ ‘রেফার’ করলে তার তদন্ত হবে এবং তার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।”

কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে কি সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত নেয়া হয়েছে? এ প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এ ব্যাপারে প্রক্রিয়ার কথাই তুলে ধরেন।

“কোন ঘটনার তদন্ত না করে তো কোন ব্যবস্থা নেয়া যাবে না” – বলেন তিনি।

আমি এ নিয়ে কোন নেতিবাচক চিন্তা করতে চাই না। আমার বিশ্বাস এটা প্রশমিত হয়ে যাবে – বলেন নির্বাচন কমিশনার। সূত্র: বিবিসি।