রুহুল আমিনের বিদায়ে স্বস্তি আ’লীগে

পলিটিক্স ডেস্ক,দিগন্ত.নেট:অবৈধভাবে সরকারি সম্পদ ব্যবহার করার মামলা এবং সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করার দায়ে জাতীয় পার্টির এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এর ফলে তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়েছেন। এর আগে দলের মহাসচিবের পদ থেকে তাকে জাতীয় পার্টি বিদায় করে দেয়। এবার রুহুল আমিন মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সুযোগ হারানোয় আসনটিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

আপিলে তার মনোনয়নপত্র অবৈধ হওয়ায় শুক্রবার রাতে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নেতাকর্মীর ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। যদিও এর আগে তাকে পটুয়াখালী-১ আসন থেকে হটাতে ঝাড়ু মিছিলসহ নানান কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে আবুল কালাম মৃধার অভিযোগে বন বিভাগের মামলার তথ্য বেরিয়ে আসে। ২০১৭ সালে পটুয়াখালী বন বিভাগের তিন লাখ ৯৫ হাজার ৬৯৯ টাকার মামলার কথা হলফনামায় উল্লেখ না করে তথ্য গোপন করেন রুহুল আমিন।

জানা গেছে, জাতীয় পার্টির শামনামলে কৃষি প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে রুহুল আমিন সরকারি লঞ্চ ‘বন তাপসী’ অবৈধভাবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন। পরবর্তী সময়ে পটুয়াখালী বন বিভাগ ক্ষতিপূরণ বাবদ তার কাছে তিন লাখ ৯৫ হাজার ৬৯৯ টাকা ধার্য করে। কিন্তু ক্ষতিপূরণের ওই টাকা না দেয়ায় বন বিভাগ তার বিরুদ্ধে মামলা করে। ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি এ মামলার শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে রুহুল আমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এরপর নির্বাচন কমিশনে আপিল করেও তিনি বৈধতা ফিরে পাননি। পটুয়াখালী-১ আসনের (সদর উপজেলা, মির্জাগঞ্জ ও দুমকি) মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৯৩ হাজার ১৪৫ জন।

এর মধ্যে টেনেটুনে জাতীয় পার্টির ভোট ১০ হাজারের মতো। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনেকটা আওয়ামী লীগের কাঁধে ভর করে রুহুল আমিন নির্বাচিত হন। এবারও তিনি এমপি হওয়ার মিশনে নেমেছিলেন কিন্তু তার সে আশা গুড়ে বালি।

ফলে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে সাবেক ধর্মপ্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আলহাজ শাহজাহান মিয়ার নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার কোনো বাধা থাকল না। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাঁচ বছর নির্বাচনী এলাকায় রুহুল আমিনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

অধিকাংশ সময় হেলিকপ্টারে করে তিনি এলাকায় এসেছেন। এ কারণে এলাকায় তিনি হেলিকপ্টার এমপি হিসেবেও পরিচিত। সাধারণ ভোটারদের অভিযোগ, পাঁচ বছরে এলাকার উন্নয়নে রুহুল আমিনের যেমন কোনো ভূমিকা দেখেনি, তেমনি জাতীয় পার্টিকে স্থানীয়ভাবে সুসংগঠিত করতেও তার কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

তবে তার দাপটে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানান আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপি প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী। ভোটের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ বিচলিত নয় বলে জানান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান মিয়া।

দিগন্ত.নেট:আ/বি/গো

ফেঁসে যাচ্ছেন রুহুল আমিন হাওলাদার

পলিটিক্স ডেস্ক,দিগন্ত.নেট:নির্বাচনী হলফনামায় পটুয়াখালী বন বিভাগের মামলাটি গোপন করায় ফেঁসে যাচ্ছেন জাতীয় পার্টির সদ্য বিদায়ী মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি।

২০১৭ সালে পটুয়াখালী বন বিভাগের ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৬৯৯ টাকা দায়েরকৃত ওই মামলাটির কথা হলফনামায় উল্লেখ না করে তথ্য গোপন করেন তিনি।

বিষয়টি উল্লেখ করে শহরের টাউন কালিকাপুর এলাকার আবুল কালাম মৃধা রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করলে এ তথ্য বেরিয়ে আসে।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় পার্টির শামনামলে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার কৃষি প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন পটুয়াখালী বন বিভাগের সরকারি ‘বন তাপসী’ নামের একটি লঞ্চ তিনি অবৈধভাবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে ক্ষতিসাধন করেন।

পরবর্তীতে বন বিভাগ ক্ষতিপূরণ বাবদ তার কাছে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৬৯৯ টাকা ধার্য করে। কিন্তু ক্ষতি পূরণের ওই টাকা না দেয়ায় বন বিভাগ ১৯৯৩ সালের ১৫ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে আদালতে একটি সার্টিফিকেট মামলা হয়।

যা বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং এ মামলার পরবর্তী নির্ধারিত তারিখ ধার্য রয়েছে ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি।

এদিকে জাতীয় পার্টির এ নেতা এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য গত ২৮ নভেম্বর পটুয়াখালী-১ (সদর-মির্জাগঞ্জ-দুমকি) আসনে দলের প্রার্থী হিসেবে তার মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

মনোনয়নপত্রের ৩ (খ) কলামে প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা থাকলে তার বিবরণ উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক রয়েছে। তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়েরকৃত ৩ মামলার বিবরণ উল্লেখ করলেও বন বিভাগের এই মামলাটির (মামলা নং ১/বন/১৯৯-৯৪) বিষয় তথ্য গোপন করে গেছেন।

আর এ তথ্য গোপনেই শেষ পর্যন্ত ফেঁসে যাচ্ছেন এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী জানান, জাতীয় পার্টির নেতা এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছেন।

বিষয়টির ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দিগন্ত.নেট:আ/বি/গো

রুহুল আমিন হাওলাদারের মনোনয়নপত্র বাতিল

পলিটিক্স ডেস্ক,দিগন্ত.নেট:একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-১ আসনে জাতীয় পার্টির সদ্য সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

শুক্রবার আপিলের দ্বিতীয় দিনে শুনানি শেষে কমিশন ট্রাইব্যুনাল তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে।

এর আগে ঋণখেলাপির অভিযোগে রুহুল আমিন হাওলাদারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

প্রার্থিতা ফিরে পেতে গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন রুহুল আমিন হাওলাদারের আইনজীবী নজরুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, গত ৩ ডিসেম্বর রুহুল আমিন হাওলাদারকে সরিয়ে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মশিউর রহমান রাঙাকে নতুন মহাসচিব নিয়োগ দেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

রুহুল আমিনের কারণে এককভাবে নির্বাচনে ইসলামী ফ্রন্ট

এককভাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের প্রধান শরিক বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি)। মহাজোটের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে তারা।

দলটির নেতাদের দাবি কেবল চট্টগ্রামেই তাদের অন্তত ৮ লাখ থেকে ১০ লাখ ভোটার রয়েছে। যেসব আসনে তাদের আধিপত্য রয়েছে সেসব আসনে তাদের ভোটই এমপি নির্বাচনে ফ্যাক্টর হবে।

কারণ চট্টগ্রামে কেবল এই দলের নির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রয়েছেন চারজন। যারা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীকে বিগত নির্বাচনে বিপুল ভোটে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ইসলামী ফ্রন্টের অভিযোগ, জাতীয় পার্টির মহাসচিব (সদ্য বহিষ্কৃত)ও সম্মিলিত জাতীয় জোটের মুখপাত্র রুহুল আমিন হাওলাদারের স্বেচ্ছাচারিতা ও ব্যর্থতার কারণেই সম্মিলিত জাতীয় জোটের শরিকরা শেষ মুহূর্তে বিপাকে পড়ে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে তারা সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টির জন্য ঐক্যবদ্ধ ও জোটগতভাবে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে থাকলেও তা আর হচ্ছে না।

কারণ এরই মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা প্রদান এমনকি বাছাইও শেষ হয়ে গেছে। গত শনিবার রুহুল আমিন হাওলাদারের সঙ্গে দেখা করে আসন বণ্টন নিয়ে কথা বলেন ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব মাওলানা এমএ মতিন। কিন্তু কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় দলটি এককভাবে নির্বাচনের পথেই এগুচ্ছে বলে দলের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে দলের মহাসচিব মাওলানা এমএ মতিন সোমবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, দুই বছরের কাছাকাছি হয়েছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে সম্মিলিত জাতীয় জোট গঠন হয়েছে।

এই জোটের প্রধান শরিক ইসলামী ফ্রন্ট। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ চট্টগ্রামে তাদের নিয়ে বড় সমাবেশও করেছেন। নির্বাচন সামনে রেখে এই জোট গঠন হলেও আসন বণ্টন নিয়ে শেষ মুহূর্তে এসেও কোনো ধরনের সুরাহা হয়নি।

রুহুল আমিন হাওলাদার সম্মিলিত জাতীয় জোটের মুখপাত্র। তিনি মহাজোটের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে কী কথা বলছেন, শরিক দলগুলোকে কয়টি আসন দেয়া হবে; নাকি আদৌ দেয়া হবে না- এসব বিষয়ে বারবার জানতে চেয়েও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে তাদের অন্ধকারে রাখা হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার তিনি (এমএ মতিন) রুহুল আমিন হাওলাদারের সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে জানতে চান। কিন্তু তাকে আশ্বস্ত করতে পারেননি রুহুল আমিন হাওলাদার।

সম্মিলিত জাতীয় জোট ও এর শরিকরা শেষ মুহূর্তে এসে যে বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে তার দায় রুহুল আমিন হাওলাদার এড়াতে পারেন না। তিনি আরও বলেন, এখনও তারা অপেক্ষায় আছেন।

পাশাপাশি যেহেতু হাতে সময় কম, তাই এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা সারা দেশে ২৭টি আসনে প্রার্থী দেবেন। মহাজোটের কারণে আসন সীমিত করেছিলেন তারা। এ কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সূত্র জানায়, গত বছরের ৭ মে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে সম্মিলিত জাতীয় জোট গঠিত হয়। এই জোটে ৫৮টি দল থাকলেও নিবন্ধিত দল হচ্ছে কেবল জাতীয় পার্টি ও ইসলামী ফ্রন্ট।

সুন্নি ও তরিকতপন্থীদের সমন্বয়ে গঠিত দল ইসলামী ফ্রন্টের সারা দেশে রয়েছে বিশাল কর্মিবাহিনী। ১৯৯১ সাল থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এই দল। মোমবাতি প্রতীকে দলটি নির্বাচন করে।

বিগত উপজেলা নির্বাচনে চট্টগ্রামের চারটি উপজেলায় এই দলের চারজন প্রার্থী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। চট্টগ্রামে বিগত উপজেলা নির্বাচনে যে চারটি উপজেলায় ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী বিপুল ভোটে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে এখনও বহাল আছেন তারা হলেন- বোয়ালখালী উপজেলায় আকতার হোসেন।

তিনি ৭২ হাজার ভোটে জয়ী হন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই প্রার্থীকে তিনি পরাজিত করেন। বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাচনে ১০ হাজার ভোটে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে পরাজিত করে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ওবায়দুল হক হক্কানি।

চন্দনাইশ উপজেলায় কাজী মাওলানা সোলাইমান ফারুকী ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। পটিয়া উপজেলায় সৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই প্রভাবশালী প্রার্থীকে পরাজিত করেন।

ফটিকছড়িতে মাইজভান্ডার দরবার শরীফের শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ আল হাসানি ইসলামী ফ্রন্ট থেকে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন। সব মিলে ইসলামী ফ্রন্ট এককভাবে নির্বাচন করলে তা আওয়ামী লীগের জন্যই ক্ষতি হবে বলে ফ্রন্টের অনেকেই মনে করছেন।

দিগন্ত.নেট:আ/বি/গো

এরশাদ রাতে ঘুমাতে পারছেন না !

জাতীয় নির্বাচনে এরশাদকে নিয়ে আবার রহস্য তৈরি হয়েছে। তাকে নিয়ে একেকদিন একে রকম খবর আসে। সত্যমিথ্যা নির্ণয় করা কঠিন। বর্তমানে তিনি অসুস্থ। তবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের রোগটা কি সেটা রীতিমত ধোঁয়াশায় রূপ নিয়েছে।

জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে একেক সময় একেক রোগের বর্ণনা দেয়া হচ্ছে। কখনো বলা হচ্ছে বার্ধক্যজনিত রোগ, আবার কখনো প্রচার করা হচ্ছে হাঁটুর ব্যাথাজনিত রোগ।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বলা হচ্ছে রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়া এবং নতুন করে হিমোগ্লোবিনের রক্তকণা তৈরি না হওয়া। আসলেই কোন রোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি আক্রান্ত না কেউ সঠিকভাবে বলতে পারছেনা।

সম্প্রতি মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগে তার দলের মহাসচিবকেও বদল করেছেন। এ ব্যাপারে বিবৃতি দিলেও এরশাদের সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জাপার একাধিক সূত্র জানায়, এরশাদ শারীরিক ভাবে যতটা না অসুস্থ তারচেয়ে বেশি মানুষিকভাবে অসুস্থতা। এরশাদের ব্যক্তিগত ষ্টাফ ওহাব মিয়া জানান, স্যারের ঘুম খুব কম হচ্ছে। ঘুমের ব্যাঘাতজনিত রোগে আক্রান্ত স্যার। গভীর রাত পর্যন্ত স্যার না ঘুমিয়ে জেগে থাকেন।

তবে এরশাদের পারিবারিক সূত্র দাবি করছে, নানাবিধ রোগে আক্রান্ত এরশাদ। এদিকে, উন্নততর চিকিৎসার জন্য এরশাদকে বিদেশ যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হলেও আপাতত তিনি দেশ ছাড়তে নারাজ।

মহাজোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির পর দলীয় অবস্থা বিবেচনা করে এরশাদ ১০ ডিসেম্বরের পর চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে পারেন।

প্রসঙ্গত, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ নিয়মিত সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চেকআপ করান। সেখানেই তার চিকিৎসার কথা রয়েছে।

স্বৈরাচার পতন দিবস আজ

আজ ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার পতন দিবস। ১৯৯০ সালের এইদিনে গণ-আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন তত্কালীন স্বৈরশাসক এইচএম এরশাদ। এরমধ্য দিয়ে এরশাদের ৯ বছরের শাসনের অবসান হয়।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃত্বোধীন জোটের টানা কর্মসূচির কারণে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন এরশাদ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দিবসটি পালন করে ‘গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ হিসেবে। বিএনপি পালন করে ‘স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ হিসেবে।

আর এরশাদের দল জাতীয় পার্টি (জাপা) দিবসটি পালন করে ‘সংবিধান সংরক্ষণ দিবস’ হিসেবে। জাপার নবনিযুক্ত মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা গতকাল এক বিবৃতিতে আজ ‘সংবিধান সংরক্ষণ দিবস’ পালনের জন্য দলের জেলা ও উপজেলাসহ সর্বস্তরের কমিটিকে অনুরোধ করেছেন।

দিবসটি উপলক্ষে গতকাল এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আরো শক্তিশালী করে দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন। গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী সংগ্রামী দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,

নব্বই পরবর্তী দুই দশকে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছে। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অবৈধ ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো ষড়যন্ত্রই আমাদের সত্য ও ন্যায় এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।

দিনটি সামনে রেখে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক বাণীতে বলেছে, শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র এখনো শঙ্কামুক্ত নয়। দিবসটি উপলক্ষে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল পৃথক কর্মসূচি পালন করবে।

দিগন্ত.নেট:আ/বি/গো