বেতন না বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন !

আন্তর্জাতিক

বেতন বাড়ানোর জন্য আন্দোলনের ঘটনা প্রতিনিয়ত শুনলেও এবার তার উল্টো ঘটনা ঘটেছে কানাডায়। দেশটির ৫০০ জন চিকিৎসক তাদের বেতন বাড়ানোর কারণে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, তারা ইতিমধ্যে অনেক বেশি বেতন পাচ্ছেন। তাদের আর বেতন বাড়ানোর প্রয়োজন নেই।

যুক্তরাজ্যের নিউজইউক.কম জানিয়েছে, শত-শত কানাডীয় চিকিৎসক, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, স্থানীয় বাসিন্দা ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা বেতন বাড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়ে একটি আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন। একই সঙ্গে তাদের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ নার্সদের জন্য পুনঃবরাদ্দ এবং রোগীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে তাগিদ দিয়েছেন।

চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে ফরাসি ভাষায় এক লিখিত পত্রে বলা হয়েছে, ‘আমরা চিকিৎসকেরা শক্তিশালী সরকারি পদ্ধতিতে বিশ্বাস করি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের বেতন বৃদ্ধির ঘটনার প্রতিবাদ জানাই এবং এ বিষয়ে আমাদের মেডিকেল ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনার দাবি জানাচ্ছি।’

সিএনবিসি টিভির তথ্য মতে, ২৫ ফেব্রুয়ারি পর ৭০০ জনের বেশি চিকিৎসক বেতন না বাড়ানোর পক্ষে আবেদনে নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

গত মঙ্গলবার পর্যন্ত অন্তত ২১৩ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক, ১৮৪ জন বিশেষজ্ঞ, ১৪৯ জন আবাসিক মেডিকেল চিকিৎসক, ১৬২ জন মেডিকেল শিক্ষার্থী বেতন না বাড়ানোর পক্ষে আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, সরকারি জনস্বাস্থ্যের বাজেট কর্তনের কারণে যখন নার্স ও অফিস করণিকেরা কষ্টের মধ্যে রয়েছেন এবং রোগীরা নিম্নমানের সেবা পাচ্ছেন, ওই মুহূর্তে চিকিৎসকদের বেতন বাড়ানোর বিষয়টি অপমানজনক।

ওই আবেদনে বলা হয়েছে, ‘আমাদের নার্স, করণিক এবং অন্য পেশাজীবীরা খুবই জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন। ঠিক তখন এই বেতন বাড়ানোর বিষয় বেদনাদায়ক।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতা কেন্দ্রীয়করণ এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাজেট কাটছাটের কারণে যখন আমাদের রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবাহীন থাকছে, তখন তাদের বেতন বাড়ানোর বিষয়টি আতঙ্কজনক।’

এমন পরিস্থিতে চিকিৎসকেরা তাদের বেতন না বাড়িয়ে নার্স ও অফিস কর্মচারী এবং রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা বাড়ানোর তাগিদ দিচ্ছেন।

বাংলাদেশি বিমান বাজেয়াপ্ত করতে চলেছে ভারত

পার্কিং ফি না দিয়ে ভারতের ছত্তিশগড়ে রায়পুরের মানা বিমানবন্দরের পার্কিং বে -তে দীর্ঘ ৩ বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকায় বাংলাদেশের একটি বেসরকারি বিমান সংস্থার বিমান বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিতে চলছে ভারত।

বিমানবন্দর সূত্রের খবর, বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারের ২২০ আসন বিশিষ্ট এই বিমানটি ২০১৫ সালে ঢাকা থেকে ওমানের রাজধানী মাসকট যাওয়ার পথে ইঞ্জিনের সমস্যায় জরুরি অবতরণ করে মানা বিমানবন্দরে।

তারপর থেকেই বিমানটি রানওয়ের পাশে পার্কি বে-তে দাঁড়িয়ে আছে। ২০১৬ সাল একবার বাংলাদেশ থেকে ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে এসে মেরামত করার চেষ্টা করার পাশাপাশি বিমানটির ইঞ্জিন বদল করেও কোনো লাভ হয়নি। এতে ব্যর্থ হয় বিমানটিকে ফের উড়িয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসার সব চেষ্টা ।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ ৩ বছর ধরে পার্কি বে-তে থাকার কারণ বিমানটির পার্কিং ফি বাবদ বকেয়া টাকাও পরিশাধ করা হয়নি বিমান সংস্থাটির পক্ষ থেকে। ইতিমধ্যেই পার্কিং ফি বাবদ পাওনা বেড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ লক্ষ রুপি।

যা নিয়ে বার বার চিঠি দিয়েও কোনোও সদুত্তর পাওয়া যায়নি ইউনাইটেড এইয়্যারের তরফে। গত ৩০শে আগস্ট ২০১৬ ইউনাইটেড জানায়, আইনগত কিছু জটিলতার কারনে বিমানটিক উড়িয়ে বাইরে আনা সম্ভব নয়।

এদিকে, মানা বিমানবন্দর কর্তপক্ষের দাবি, ছোট এই বিমানবন্দরে স্থানাভাবের জন্য বিমানটি অবতরণের আপত্তি জানিয়েছিলেন তারা । কিন্তু সেসময় বিমানটির চালক তার আপৎকালীন পরিস্থিতি এবং ঝুঁকির কথা বলে বিমান সেখানেই নামাতে চান।

বাধ্য হয় ৫ মিনিটের মধ্যে রানওয়ে খালি করে নিরাপদে বিমানটিকে অবতরণ করতে সাহায্য করে কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে বিমানবন্দরের ৬টি পার্কিং বে-র একটি গত ৩ বছর দখল করে রয়েছে পরিত্যক্ত এই বাংলাদেশি বিমানটি।

সম্প্রতি জানা গিয়েছে , বাংলাদেশি এই বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে কোনোও সাড়া না পাওয়ায় এবার পার্কিং ফি বাবদ বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্য ডিরেক্টর জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশনের তরফে চূড়ান্ত নোটিশ পাঠানো হয়েছে ইউনাটেড কে। এই নোটিশের জবাব পাওয়া না গেলে বাজেয়াপ্ত করা হবে বিমানটি ।

সূত্রের খবর, ইউ‌নাইটেড এয়ারওয়েজের ১১টি বিমান দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে পড়ে রয়েছে। যার মধ্যে ২টি ভাড়া করা এবং বাকি ৯টি উড়োজাহাজ নিজস্ব অর্থায়নে কেনা। সেগুলোর মধ্যে ৫টি ইতিমধ্যেই কার্যক্ষমতা হারিয়েছে। বাকি ৫টির মধ্যে চারটিকে ব্যয়বহুল মেরামত করা হলে ফের বহরে যুক্ত করা যেতে পারে। আর বাকি এই একটি বিমান ভারতর এই বিমানবন্দরে পড়ে রয়ছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.