‘ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পূর্বে নিজের মধ্যে শূণ্যতা ও লক্ষ্যহীনতা অনুভব করতাম’

ইসলাম

অস্ট্রিয়ার নওমুসলিম নারী ‘অ্যাঙ্গেলা হারম্যান’ কথা বলেছেন তাঁর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার বিষয়ে। তিনি বলেছেন, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পূর্বে তিনি নিজের মধ্যে শূণ্যতা ও লক্ষ্যহীনতা এবং অর্থহীনতা অনুভব করতেন। ফলে হারম্যান আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়েই ছিলেন সন্দিহান।

কিন্তু ভাগ্য তাকে এমন এক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে যে ওই ঘটনা তথা ইসলামী বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার ফলে তার স্বামী ইসলাম সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা শুরু করেন। গবেষণা শেষে তিনি ইসলাম সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে ওঠেন ও শেষ পর্যন্ত এই ধর্ম গ্রহণ করেন। এ সময় অ্যাঙ্গেলা হারম্যান নিজেকে ইসলামের খুব কাছের বিষয় বলে অনুভব করেন। কিন্তু কয়েকটি বিষয় এক্ষেত্রে তার ও তার স্বামীর মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি করে।

হারম্যান বলেন, “আমার স্বামী যখন মুসলমান হলেন তখন তার আচার-আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটল। আর এ বিষয়টি আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ইসলাম চর্চার ক্ষেত্রে তার আচরণ ও ততপরতাগুলো আমার মনকে আধ্যাত্মিক পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত করে তোলে। আমি স্পষ্টভাবে দেখছিলাম যে, ইসলামের রয়েছে বিশেষ আকর্ষণ এবং ঔজ্জ্বল্য। কিন্তু আমি এটাও অনুভব করতাম যে, মুসলমান হলে আমাকে হিজাব মেনে চলতে হবে এবং তা আমাকে একজন শিক্ষিত ব্যক্তি থেকে অশিক্ষিত ব্যক্তিতে পরিণত করবে। কারণ, আমাদের সমাজে মানুষের দর নির্ধারিত হয় বাহ্যিক সাফল্যগুলো দিয়ে, নৈতিক গুণ ও খোদা-ভীতির স্থান তাতে নেই।

অন্যদিকে এটা বুঝতে পেরেছিলাম যে, প্রশান্তি অর্জনের জন্য আমার প্রচেষ্টা কেবল আল্লাহকে জানা এবং তাঁর প্রতি আস্থা বা দৃঢ় বিশ্বাসের মাধ্যমেই অর্জিত হতে পারে। অবশেষে কিছুকাল পর আমার ভেতরকার কুমন্ত্রণার ওপর জয়ী হই এবং সন্দেহের পর্দাগুলোকে দূরে ঠেলে দিয়ে ইসলামের দিকে এগিয়ে যেতে থাকি।”

ঈমানের মাধুর্য বা মিষ্টতা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে অস্ট্রিয়ার নওমুসলিম নারী তিনি বলেন, “যদিও প্রথম দিকে ইসলামের বিধিবিধানগুলো পালন করা আমার জন্য সহজ মনে হয়নি, কিন্তু আজ আমি যে কিছু সময় ধরে নামাজ আদায় করছি, তা আমার কাছে খুবই মধুর ও আনন্দঘন। নামাজ মানুষের আত্মার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। নামাজের পদ্ধতি ও কর্মসূচি বা কাজগুলো খুবই কৌশলে প্রণয়ন করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনের আয়াতে এসেছে, নামাজ মানুষকে সব ধরনের মন্দ ও অশ্লীলতা থেকে দূরে রাখে।

আমি স্পষ্টভাবে এটাও দেখতে পেয়েছি যে, আমার আশপাশে উদ্বেগের নানা কারণ, সমস্যা ও মন্দ বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকার মাধ্যম হল নামাজ। যে কয়েক মিনিট নামাজে মশগুল থাকি সে সময় আমি অনুভব করি বিস্ময়কর আত্মিক প্রশান্তি। নিঃসন্দেহে যে আল্লাহ আমাদেরকে দান করেছেন এই নামাজ তিনি আমাদের শরীর ও আত্মা সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত এবং আমাদের ওপর পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখেন। আমরা যদি মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারি তাহলে ইহকাল ও পরকালের সৌভাগ্য লাভ করাও সম্ভব হবে।”

অ্যাঙ্গেলা হারম্যান মুসলমান হওয়ার পর নিজের নতুন নাম রাখেন ফাতিমা। তিনি আরও বলেন, “ইসলাম পরিবার ও স্বামী সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। বর্তমানে পশ্চিমা সমাজে নারী-পুরুষের সম্পর্ক তীব্র সংকটের শিকার। এই সমাজে এখন দায়িত্বানুভূতি, মানব-প্রেম ও পারস্পরিক অঙ্গীকার অধঃপতনের মাঝে হারিয়ে গেছে। অথচ ইসলামে নারী-পুরুষের পারিবারিক সম্পর্ক এবং পরিবারের সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্ক খুবই শক্তিশালী। মুসলিম পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পর্ক খুবই আন্তরিক, উষ্ণ ও প্রেমপূর্ণ।

অন্যদিকে পাশ্চাত্যে প্রচলিত ধারার বিপরীতে আমি একজন মুসলমান হিসেবে নিজেকে অতীতের তুলনায় খুব বেশি স্বাধীন বলে অনুভব করছি। আমি এখন এমন একজন নারী পরিবারে যার দায়িত্ব রয়েছে এবং রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। আমি এখন হিজাব বা পর্দাকে নারীর প্রতি অবমাননা তো দূরের কথা, বরং তাকে নারীর সুরক্ষার মাধ্যম বলে মনে করি। এই পর্দা আমার শরীর ও আত্মাকে রক্ষা করছে। আমি মহান আল্লাহকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এ জন্য যে তিনি আমাকে করুণা করেছেন, আমাকে গ্রহণ করেছেন এবং মুসলমান হওয়ার মত মহানেয়ামত দান করেছেন যা আমি বহু বছর ধরে বিভ্রান্ত থাকার পর লাভ করেছি। আমি আশা করছি বিশ্বের সব মানুষের চোখ আলোকিত হবে প্রকৃত মূল্যবোধ ও বাস্তবতাগুলোর উজ্জ্বল স্বর্গীয় আলোয়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.