আলেকজান্ডার দি গ্রেটের শেষ ইচ্ছা

জানা ওজানা

আলেকজান্ডার দি গ্রেট’ বেঁচেছিলেন মাত্র ৩২ বছর। এই ছোট্ট জীবনে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন প্রাচীন যুগের অন্যতম বিশাল সাম্রাজ্য।

এত বড় এই যোদ্ধা মারা গিয়েছিলেন সামান্য জ্বরে আক্রান্ত হয়ে, নিজের সাম্রাজ্যের বাইরে অন্য রাজ্যে। খুব ইচ্ছা ছিল তার নিজের প্রাসাদে ফিরে মরবেন, কিন্তু মৃত্যু তাকে সেই সময় দেয়নি।

মৃত্যুশয্যায় ‘আলেকজান্ডার দি গ্রেট’ তার জেনারেলদের ডেকে তিনটি শেষ ইচ্ছার কথা বলেছিলেন।

● তার কফিন কবরস্থানে বহন করে নিয়ে যাবে তার সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ ডাক্তারেরা।

● তাকে বহন করার রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে দেয়া হবে তার অগাধ সম্পদ– টাকা, স্বর্ণ, মণিমুক্তা – যা কিছু তিনি তার ঈর্ষণীয় সাফল্যমণ্ডিত জীবনে অর্জন করেছিলেন।

● তার হাত দুটো কফিন থেকে বাইরের দিকে ঝুলিয়ে দেয়া হবে।

আলেকজান্ডারের এই অদ্ভূত ইচ্ছাগুলো শুনে তার এক জেনারেল অবাক হয়ে তাকে প্রশ্ন করলে আলেকজান্ডার ব্যাখ্যা করলেন।

তিনি বললেন, আমি চাই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ডাক্তারেরা আমার কফিন বহন করুক, যাতে মানুষ উপলব্ধি করতে পারে যে, মৃত্যু যখন আসবে তখন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ডাক্তারেরা একসঙ্গে মিলেও সারিয়ে তুলতে পারবে না।

আমি চাই আমার কবরস্থানে যাওয়ার পথ সম্পদে ছড়িয়ে থাকুক, যাতে সবাই দেখতে পায় যে এই দুনিয়ায় অর্জিত সম্পদ দুনিয়াতেই থেকে যাবে।

আমি চাই আমার হাত দুইটা কফিন থেকে বাইরের দিকে ঝুলে থাকুক, যাতে মানুষ শিক্ষাগ্রহণ করতে পারে যে আমরা এই দুনিয়ায় খালে হাতে এসেছিলাম, যখন সময় ফুরিয়ে যাবে তখন আবার খালি হাতেই চলে যাবো।

ঘটনা থেকে শিক্ষা
আমরা কবরে কোনও সম্পদ নিয়ে যাবো না, রেখে যাওয়া ভালো কাজগুলোই শুধু আমাদের কাজে লাগবে। এই পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো সময়,

কারণ আমাদের প্রত্যেকের আয়ু নির্ধারিত করা আছে। আমরা পরিশ্রম করে টাকা-পয়সা অর্জন করতে পারবো, কিন্তু একটা সেকেন্ড সময়ও আমরা কিনতে পারবো না।

প্রতিটি আত্মাকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে। যাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হবে আর জান্নাতে প্রবেশ করতে দেয়া হবে, সেই চূড়ান্ত সফলতা লাভ করল। আর দুনিয়ার জীবনতো ধোঁকার উপকরণ ছাড়া কিছুই নয়।– (সুরা আল-ই-ইমরান ৩:১৮৫)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *