জিয়া পরিবারের প্রতি দেশের ৭০ ভাগ মানুষের সমর্থন: অলি আহমদ

জাতীয়

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী। জাতিধর্ম-দলমতনির্বিশেষে দেশবাসী সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রীকে এ ধরনের শাস্তি দেওয়াটা মেনে নিতে পারেনি। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানেরও এ ধরনের শাস্তি প্রাপ্য ছিল না। অলি আহমদ বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, অন্যায়ভাবে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে মিথ্যা অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বেগম জিয়া বা জাতীয়তাবাদী শক্তিকে দমন করা সম্ভব নয়। কারণ, বাংলাদেশের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষই জাতীয়তাবাদী পক্ষের লোক। এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে সরকার পরাজয়ের ভয়ে খালেদা জিয়াকে শাস্তি দিচ্ছে।

তারা বেগম জিয়াকে নির্বাচনে অযোগ্য করতে চায়। জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করে দিতে চায়। কিন্তু এ দেশের ৭০ ভাগ মানুষের সমর্থন জিয়া পরিবারের প্রতি। তিনি বলেন, দেশের লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। লোপাট হচ্ছে হাজার কোটি টাকা।

হলমার্ক, ডেসটিনি ও শেয়ার মার্কেটের টাকা আজ কোথায়? পত্রপত্রিকায় অনেকের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেই। সরকারে থাকলে সাত খুন মাফ, বিরোধী দলে থাকলে মহাপাপ! প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ বলেন, দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসনের স্বার্থে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্যই আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। যে কোনো মূল্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

এ চেতনা লুটপাট নয়, গণতন্ত্র ধ্বংস করা নয়। জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তির জন্য ২০ দলের কঠোর কোনো কর্মসূচি আছে কিনা— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই বিএনপির পক্ষ থেকে বেশকিছু কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ২০-দলীয় জোটও এতে অংশ নিয়েছে। আমাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক। দেশের ক্ষতি হোক, জনগণ অশান্তিতে থাকুক, জানমালের কোনো ক্ষতি হোক— এ ধরনের কোনো কর্মসূচি দেওয়া হয়নি।

বেগম জিয়া জেল থেকে মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। অলি আহমদ বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে আবারও নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এগুলোয় আমরা শুধু সমর্থনই দিইনি, অংশও নেব। সরকার এখন বিএনপিতে কিংবা জোটে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু এতে খুব একটা লাভ হবে না। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দেশের সবচেয়ে বৃহৎ রাজনৈতিক দল।

৭০ ভাগ লোকের সমর্থন নিয়ে এ দল টিকে আছে। বিগত ১০ বছরেও সরকার পারেনি, আমার মনে হয় না ভবিষ্যতেও পারবে। বিএনপি-প্রধানকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হলে জোট নির্বাচনে যাবে কিনা— এমন প্রশ্নে কর্নেল অলি বলেন, আগামী নির্বাচন কিংবা আন্দোলন সবকিছুই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে।

আগামীতে কী হবে তা এখনো মন্তব্যের সময় আসেনি। এখন আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। এর আগে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করে আনা। বর্তমানে যে সমস্যা রয়েছে, তাই নিয়ে ভাবছি।

আরও পড়ুন- বাতিল হচ্ছে ১৯ দলের আবেদন
একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পেতে ৭৬টি দল আবেদন করলেও এরমধ্যে ১৯টি আবেদন বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। এরমধ্যে নিয়ম মেনে ট্রেজারি চালান জমা না দেয়ায় ১৪টি এবং স্বাক্ষরবিহীন আবেদন জমা দেয়ার কারণে আরো পাঁচটি আবেদন বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। বাকিদের অধিকাংশই নিবন্ধনের শর্ত পূরণে পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় সংশোধনের জন্য ১৫ দিন সময় পাচ্ছে। নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আবেদন যাচাই-বাছাইয়ে গঠিত কমিটি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) এ সুপারিশ করেছে।

বাছাই কমিটির প্রধান এবং ইসি কার্যালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান জানিয়েছেন, কমিটির পক্ষ থেকে যাদের আবেদনে বড় ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেছে তাদেরগুলো বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। বাকিদের সংশোধনের সুযোগ দিতে ১৫ দিন সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। কারণ (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২) আরপিও’তে নির্দিষ্ট কিছু ভুলের জন্য সংশোধনের সুযোগ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। বাছাই কমিটির প্রস্তাব কমিশন সভায় পাঠানো হবে। সেখানেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনের আগে ইসি সংশোধন করে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে। পরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতেও নির্দিষ্ট কিছু পদে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়। সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বাইরে অন্যদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হয়।

আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছরের ৩০ অক্টোবর নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য আগ্রহীদের কাছে আবেদন চেয়েছিল ইসি। আবেদন করার শেষ সময় ছিল ৩০ ডিসেম্বর। সে অনুযায়ী ৭৬টি দল নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধনের আবেদন করে। চলতি মাসেই নিবন্ধন চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়ে গত বৃহস্পতিবার ও ছুটির দিন শনিবার ইসির নিবন্ধন যাচাই-বাছাই কমিটি কয়েক দফা বৈঠকে বসে। নিবন্ধন ফি, গঠনতন্ত্র ও আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দেয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দু’টি দলের বাইরে অধিকাংশই চাহিদা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ তথ্য জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

১৪টি রাজনৈতিক দল আবেদনের সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকার নিবন্ধন ফি ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা দেয়নি। দলগুলো হচ্ছে-তৃণমূল ন্যাশনাল পার্টি (আনারস), গণতান্ত্রিক ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভ্যাসানী) (রিক্সা), বাংলাদেশ ঘুষ নির্মূল পার্টি (বিজিএনপি) (ঝাড়ু), বাংলাদেশ সততা দল (বিএইচপি) (আনারস), বাংলাদেশ হিন্দুলীগ (হাত), বাংলাদেশ জনতা ফ্রন্ট (ছাতা), জাতীয় পরিবার কল্যাণ পার্টি (জেপিকেপি) (গলদা চিংড়ি), বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি (বিআইপি) (গমের শীষ), বাংলাদেশ শান্তির দল (চাঁদ), কৃষক শ্রমিক পার্টি (হুক্কা), জনস্বার্থে বাংলাদেশ (মোবাইল),

বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (বিএনডিপি) (স্যাটেলাইট), বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট-বিডিএম (প্রতীক চায়নি) ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ভাসানী ন্যাপ (প্রতীক চায়নি)। এছাড়া নির্ধারিত ফরমে আবেদন না করায় সুশীল সামাজিক আন্দোলন-এসএসএ (প্রতীক শার্ট) দলটির আবেদন বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টি (কলম), বাংলাদেশ তৃণমূল কংগ্রেস (গমের ছড়া বা হাতপাঞ্জা) ও মৌলিক বাংলা (মাথাল) এই তিনটি দলের আবেদনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষর না থাকায় এসব দল নিবন্ধন পাওয়ার অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিটি। ন্যাপ-ভাসানীর আবেদন অসম্পূর্ণ ও গঠনতন্ত্রের কপি জমা না দেয়ায় এ দলটির নিবন্ধন আবেদন বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইনানুযায়ী সংশোধনের সুযোগ দেয়া হলেও অনেকগুলো দল খসড়া গঠনতন্ত্র জমা দিয়েছে। ১৫ দিন সময়ের মধ্যে দলের কাউন্সিল ডেকে গঠনতন্ত্র পাস করানো সম্ভব হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও বেশকিছু দল পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়নি; আবার কেউ কেউ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০ (বি) ধারা অনুসরণ করে গঠনতন্ত্র জমা দেয়নি।

অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে নিবন্ধন উপযোগী হিসেবে যাদের বাছাই করা হবে, তাদের মাঠ পর্যায়ের কার্যালয় ও কমিটি রয়েছে কী না তা খতিয়ে দেখা হবে। তাদের বিষয়ে দাবি-আপত্তি শেষে নিবন্ধন দেয়া হবে।

রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইনে বলা হয়েছে, নিবন্ধন পেতে হলে একটি দলকে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যে কোনো নির্বাচনে অন্তত একটি সংসদীয় আসন পেতে হবে, অথবা যে কোনো একটি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে ওই আসনে প্রদত্ত মোট ভোটের ৫ শতাংশ পেতে হবে, অথবা দলের একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয় থাকতে হবে, অন্তত ২১টি প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর জেলা কমিটি থাকতে হবে এবং অন্তত ১০০ উপজেলা/মেট্রোপলিটন থানায় কমপক্ষে ২০০ ভোটারের সমর্থনের প্রমাণিক দলিল থাকতে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, তিনটির মধ্যে একটি শর্ত পূরণ হলেই নিবন্ধনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *