খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে আইনজীবীদের মিছিল

জাতীয়

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদার মুক্তি চেয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে মিছিল করেছেন অর্ধ শতাধিক আইনজীবী। তারা তারা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন। মিছিলে অংশ নেন প্রিম কোর্টের আইনজীবী কায়সার কামাল, আবেদ রাজা, রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ অর্ধ শতাধিক আইনজীবী। খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে আপিল বিভাগের রায়ের পরপরই তারা মিছিলে অংশ নেন।

খালেদা জিয়ার জামিন রোববার পর্যন্ত স্থগিত
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারারুদ্ধ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন রোববার পর্যন্ত স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। এই সময়ের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে জামিন আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের আবেদন করতে বলেছেন আদালত।

বুধবার সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্র ও দুদক আলাদাভাবে চেম্বার জজ আদালতে দুটি আবেদন করেন। শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী কোনো আদেশ না দিয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে আপিল বিভাগের এ আদেশের ফলে তিনি রোববার পর্যন্ত কারামুক্ত হতে পারছেন না।

যদিও মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার জামিন আদেশের কপি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে দুই বিচারপতি জামিন আদেশে স্বাক্ষর করেন। সিএমএম কোর্ট জামিন আদেশ গ্রহণের পর এর কপি কারাগারে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু আপিল বিভাগ জামিন স্থগিত করায় এখন আর সেটি হচ্ছে না।

এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, কুমিল্লায় গাড়ি পোড়ানোর মামলায় কাস্টডি ওয়ারেন্ট দেয়া আছে। সেই মামলায় তিনি (খালেদা জিয়া) জেলে আছেন ধরতে হবে। কাজেই ওই মামলায় জামিন না নিয়ে কারাগার থেকে বের হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।

৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ড. আক্তারুজ্জামানের আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই আদালত খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয় আসামির সবাইকে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা করে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

সেই মামলায় তিনি জেলে আছেন ধরতে হবে: অ্যাটর্নি জেনারেল
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সোমবার চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আগামী চার মাসের মধ্যে মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দেন আদালত। হাইকোর্ট বলেছেন, পেপারবুক প্রস্তুত হয়ে গেলে যে কোনো পক্ষ শুনানির জন্য আপিল উপস্থাপন করতে পারবে।

এ মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ড নিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন। সে হিসেবে ৩৪ দিন পর বুধবার খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়টি চূড়ান্ত ফয়সালার জন্য উপস্থাপন হচ্ছে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে।

এদিকে আপিল বিভাগের বুধবারের কার্যতালিকায় এক এবং দুই নম্বরে আবেদন দুটি শুনানির জন্য রাখা হয়েছে। সকাল ৯টায় এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে আপিল বিভাগ কী আদেশ দেন, এতে তিনি কারামুক্ত হতে পারবেন কিনা তা জানতে সবাই সেদিকে তাকিয়ে আছেন।

মঙ্গলবার চেম্বার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম , দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান ও খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন।

এ মামলায় জামিনের বিষয়ে আপিল বিভাগে চূড়ান্ত ফয়সালা হলে খালেদা জিয়া মুক্ত হতে পারবেন কিনা জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, কুমিল্লায় গাড়ি পোড়ানোর মামলায় কাস্টডি ওয়ারেন্ট দেয়া আছে। সেই মামলায় তিনি জেলে আছেন ধরতে হবে। কাজেই ওই মামলাতে জামিন না নিয়ে কারাগার থেকে বের হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।

আদালতের শুনানিতে কি বলেছেন জানতে চাইলেতিনি বলেন, আদালতে আমি বলেছি, খালেদা জিয়ার ১০ বছর সাজা হওয়া মর্মে নিম্ন আদালত মত দিয়েছেন। কিন্তু তাকে ৫ বছর করা হয়েছে তার বয়সের কথা বিবেচনা করে। আমি বলেছি, যেহেতু এসব বিষয় বিবেচনা নিয়ে নিম্ন আদালত দণ্ড কমিয়ে দিয়েছেন, সাজা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। সুতরাং জামিন শুনানির ক্ষেত্রে একই বিষয়গুলো পুনরায় বিবেচনা করার কোনো সুযোগ নেই। এখন আপিল শুনানি হবে আপিল শুনানিতে যদি দেখা যায় না।

ওনার বিরুদ্ধে মামলা টিকে না তাহলে উনি খালাস পাবেন। আর যদি দেখা যায় ঠিকমতোই বিচার করা হয়েছে। তাহলে উনি জেলেই থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.