হঠাৎ ফখরুলকে তারেকের ফোন, অতঃপর

বিএনপি

দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন চলছে। বিএনপি মহাসচিবও উপস্থিত। বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সংবাদ সম্মেলনের জন্য লিখিত বক্তব্য তৈরি করেছেন। সেটি রিজভী দিলেন দলের মহাসচিবকে।

মহাসচিব মির্জা ফখরুল সহ সিনিয়র নেতারা কর্মসূচি ঠিক করছিলেন। একটি বিক্ষোভ মিছিল করার কর্মসূচি চূড়ান্ত হচ্ছিল। হঠাৎই বিএনপি মহাসচিবের ফোন বেজে উঠল।

সংবাদ সম্মেলনের পয়েন্ট নোট করতে ব্যস্ত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব। তবুও ফোনটা ধরলেন তিনি।ধরেই তিনি একাকী স্থান খুঁজলেন। চারপাশে নেতাকর্মীদের ভিড়। ২ মিনিটের মতো কথা বললেন।

ফোন রেখে এসে বললেন, ‘বিক্ষোভ আপাতত থাক ; আমরা আরেকটা জনসভার তারিখ দেই। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ জানতে চাইলেন, ‘কার ফোন?’

মির্জা ফখরুল ব্যস্ততার ভঙ্গিতে প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেলেন। এমন পরিস্থিতিতে উপস্থিত সকলে ধরেই নিয়েছে ফোনটি ছিলো সূদুর লন্ডন থেকে!

খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে যা বললেন ড. কামাল

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জামিন প্রসঙ্গে সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, এই ধরনের কেসে এটা নিয়মিতভাবে হওয়া দরকার। যদিও এই কেসে অর্ডার পেতে কয়েকদিন বিলম্ব হয়েছে। সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি একথা বলেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘অদ্য হাইকোট থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুর হলো। এই ধরনের কেসে এটা নিয়মিতভাবে হওয়া দরকার।

যদিও এই কেসে অর্ডার পেতে কয়েকদিন বিলম্ব হয়েছে। আইনের শাসনে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ করে স্বাধীন বিচার বিভাগ। স্বাধীন বিচার বিভাগের গুরুত্ব সকলকে উপলদ্ধি করতে হবে। ফলে দেশ ও জনগণ উপকৃত হবে।’

উল্লেখ্য,

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ৪ মাসের জামিন দিয়েছেন আদালত। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট অফিসকে এ সময়ের মধ্যে আপিল আবেদনের পেপারবুক তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আজ সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

এর আগে গতকাল রোববার বিশেষ আদালতের রায়ের নথি হাইকোর্টে না পৌঁছায় আদালত আদেশের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন। পরে গতকালই দুপুর ১২টা ৫৪ মিনিটে পুলিশ পাহারায় বড় একটি ট্রাংকে করে মামলার নথি হাইকোর্টে আসে।

খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের আদেশের দিন ধার্য থাকায় গতকাল সকালে কয়েক শ’ আইনজীবী, বিএনপির শীর্ষ নেতা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা আদালতে উপস্থিত হন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের মধ্যে আদালতে ছিলেন মওদুদ আহমদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, আমিনুল হক, এ জে মোহাম্মদ আলী, আবদুর রেজাক খান, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, নিতাই রায় চৌধুরী, বদরুদ্দোজা বাদল, আমিনুল ইসলাম, কায়সার কামাল, নওশাদ জমির, জাকির হোসেন ভূঁইয়া প্রমুখ।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং দুদকের পে খুরশীদ আলম খান আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, জয়নুল আবদিন ফারুক প্রমুখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.