খালেদা জিয়াকে আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত করবো : ফখরুল

রাজনীতি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কার কাছে মুক্তি চাইবো। আমরা খালেদা জিয়াকে আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত করবো। তবে আইনও তো নাই। দেশে আইন নাই, নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ নাই ও আদালত নাই। তাই আমাদের সামনে মুক্তির একমাত্র পথ হচ্ছে রাজপথ। রাজপথের আন্দোলন।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এর মুক্তির দাবিতে এ আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট নামক একটি সংগঠন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এখন প্রতিবাদ করার সময়, আলোচনার সময়ও প্রায় শেষ হয়ে গেছে। কারণ বর্তমান সরকারের নতুন অস্ত্র কৌশল মামলা দিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে অকার্যকর করে রাখা।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কারাগার থেকে বের হলে এই সরকার জনস্রোতে ভেসে যাওয়ার ভয়ে ছলচাতুরী করে আটকে রাখার চেষ্টা করছে। যার ধারাবাহিকতায় তারা (সরকার) ক্ষমতায় টিকে থাকতে চতুরদিকে ষড়যন্ত্র করছে।

সরকার বিএনপিতে কৌশলে বিভেদ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বাংলায় একটি প্রবাদ আছে ‘শকুনের দোয়ায় গরু মরে না’। খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ ও সাংগঠনিকভাবে শক্তি হয়েছে।

তাই আমরা প্রতিটি কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পালন করে যাচ্ছি। জনগণকে সম্পৃক্ত করে যাচ্ছি। আর এতেই সরকার ভয় পাচ্ছে। তারা বিভিন্ন কৌশলে বিএনপির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।’এই সরকার জনগণের সরকার নয়, এরা নির্বাচিত নয়। তারা জোর করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে আছে’।

ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন মিলনের মৃত্যু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মিলনকে হত্যা করে জেলে পাঠানো হয়েছে। তাকে নির্যাতন নিপীড়ন করে হত্যা করা হয়েছে। গত কয়েক বছরে শুধু একা মিলন নয় আরও অনেক মিলনকে হত্যা করা হয়েছে।

ফখরুল বলেন, এখন জেগে উঠার সময় তাই আসুন দলমত নির্বিশেষে অবৈধ ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই, রাজপথে নেমে আসি ফ্যাসিস্ট অপশক্তিকে পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি।

এসময় গতকাল গ্রেফতার হওয়া জামায়াত ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমিরসহ সকল রাজবন্দির মুক্তি দাবি করেন বিএনপির এই নেতা।

সাবেক মন্ত্রী ও সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে বক্তব্যে দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড সুকোমল বড়ুয়া, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, প্রান্তিক জনশক্তি ও উন্নয়ন বিষয়ক সহ সম্পাদক অর্পণা রায় প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.