হঠাৎ এরদোয়ান-টিলারসনের ৩ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক

তুরস্কের সংবাদ

সিরিয়ার আফরিন এলাকায় মার্কিন সমর্থিত কুর্দি গেরিলা গোষ্ঠী ওয়াইপিজি’র বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের মধ্যেই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান ও আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। আফরিনে চলমান অভিযান নিয়ে যখন দুই ন্যাটো সদস্যের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে তখন এ বৈঠক হলো।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, তুর্কি প্রেসিডেন্ট ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দু দেশের মধ্যে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে রুদ্ধদ্বার এ বৈঠক।

সূত্র আরো জানিয়েছে, বৈঠকে টিলারসনকে এরদোয়ান সিরিয়ায় তার মূল উদ্দেশ্য ও অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি ইরাক পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক ঘটনাবলী এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই নিয়ে আলোচনা করেন তারা।

বৈঠক সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এরদোগান ও টিলারসনের বৈঠক ছিল ‘ফলপ্রসূ ও খোলামেলা’। এ মুখপাত্র টিলারসনের সঙ্গে তুরস্ক সফর করছেন।

বৈঠকের আগে তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নূরুদ্দিন চানিক্লি বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলেসে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তুরস্ক চায় আফরিন এলাকা থেকে কুর্দি গেরিলাদেরকে বহিষ্কার করুক আমেরিকা।

কুর্দি গেরিলা গোষ্ঠী ওয়াইপিজি-কে শত্রু মনে করে তুরস্ক। অন্যদিকে, আমেরিকা দাবি করে আসছে- উগ্র দায়েশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কার্যকর শক্তি হচ্ছে ওয়াইপিজি। পার্সটুডে

বিডি২৪লাইভ/এএইচআর

ফ্লোরিডা ট্র্যাজেডিও ভাঙতে পারল না ট্রাম্পের নীরবতা

আমেরিকার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের একটি স্কুলে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পর দেশের স্কুলগুলোর নিরাপত্তা ও ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি নজর রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তবে অবাধে অস্ত্র ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে একটি কথাও বলেননি তিনি। ট্রাম্প এবারও অস্ত্রের অবাধ ব্যবহার বন্ধের দাবির বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।

ট্রাম্প শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে বলেছেন, আমি তোমাদেরকে জানাতে চাই তোমরা কখনোই একা নও, ভবিষ্যতেও একা থাকবে না। তিনি স্কুলগুলোর নিরাপত্তা জোরদার ও ছাত্র-ছাত্রীদের মাসনিক সুস্থতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। ট্রাম্প এমন সময় এসব কথা বললেন যখন তিনি বাজেটে এ সংক্রান্ত খাতে বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।

ফ্লোরিডার পার্কল্যান্ডে হাইস্কুলে সাবেক এক ছাত্রের গুলিতে ১৭ জন নিহত ও ১৪ জন আহত হওয়ার পর তিনি অভিভাবক, শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সান্ত্বনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন।

কিন্তু আসলেই যারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহিংসতা বন্ধ করতে চান তারা ট্রাম্পের বক্তব্যে স্বস্তি পান নি। কারণ তারা অবাধে অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগকেই এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বলে মনে করেন।

অনেক অভিভাবকের মতে, ট্রাম্প শোক নিয়ে মাতামাতি করলেও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে একটি কথাও বলছেন না। কারণ তিনি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করতে চান না। আর এর কারণ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের দেয়া অনুদান নিয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।

বছরের পর বছর ধরে আমেরিকায় এ নিয়ে বিতর্ক চললেও এ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। অবশ্য বারাক ওবামার আমলে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে তিনি চেষ্টা করেছিলেন।

কিন্তু রিপাবলিকানরা এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় বিষয়টি বেশি দূর এগোতে পারে নি। রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি যেন ভুলেই গেছে সরকার। বর্তমানে আমেরিকায় যে কেউ অবাধে নিজের কাছে অস্ত্র রাখতে পারে এবং তা বহন করতে পারে। পার্সটুডে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.