যা বললেন রিকশাচালককে মারধরকারী সেই নারী!

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার রাস্তায় মারমুখী ভঙ্গিতে একজন নারী এক রিকশাচালককে মারছে- এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নিজের দল আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার হয়েছেন ওই নারী।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মকবুল হোসেন তালুকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

রিকশাচালককে মারধোরের ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে যে নারীকে দেখা গেছে, তিনি মিরপুরের ঐ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের মহিলা-সম্পাদিকা সুইটি আক্তার শিনু। ভিডিও দেখার পর মিজ. সুইটিকে দলীয় কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয় বলে মি. মকবুল জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘যে ভিডিওটা ভাইরাল হইছে সেইটা আমরা দেখছি। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে বসে সবাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাকে দল কমিটি থেকে বহিষ্কার করার’।

মিজ. সুইটি এক-দেড় বছর আগে এই কমিটিতে যুক্ত হন। তিনি স্থানীয় একজন এমপির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক কমিটির সদস্য বলে জানান মকবুল হোসেন তালুকদার।

কী বলছেন সুইটি আক্তার?

যে ভাইরাল ভিডিওটি নিয়ে নানারকম আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে, সেটির বিষয়ে সুইটি আক্তার কথা বলেছেন।

তিনি বলেছেন, মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। ওই ঘটনা নিয়ে তিনি এখন ‘লজ্জিত’ বলেও জানান।

তিনি বলেন, ‘আমি একদম স্যরি, যেহেতু আমার ভুল হয়ে গেছে। আমার এটা করা উচিত হয়নি। আমি স্যরি বলতেছি।’

এ ঘটনার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ভুল হইছে। আমার দল ঠিক করেছে।’

তাঁর দাবি, ‘দলের বাইরের কিছু লোক ভিডিও করে তাকে অপব্যবহার করছে।’

এই ভিডিও ভাইরাল হওয়া সম্পর্কে সুইটি আক্তার বলেন, ‘এই ইলেকশনকে কেন্দ্র করে এইগুলা করতেছে। বেশি আমাদের বিপক্ষের লোকগুলা লেখালেখি করতেছে।’

এই ঘটনার পরে ফেসবুকে বেশ কিছু ফেক আইডি তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। কোনটিতে তাকে ‘বিএনপি নেত্রী’ আবার কোনটিতে তাকে ‘আওয়ামী লীগ নেত্রী’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

কেন মারধোর করলেন তিনি?

সামাজিক মাধ্যমে বিশেষ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে যেটুকু দেখা গেছে তার আগে কিছু ঘটনা ঘটেছে তা লোকজনের নজরে আসেনি বলেও তিনি দাবি করেন।

‘বাসায় আমার বাচ্চা আছে এবং চুলায় রান্না চাপানো আছে- এটা বলার পরও রিকশাচালক তার কথা না শুনে ধীরে ধীরে চালাচ্ছিলেন এবং ভাঙ্গা জায়গা দিয়ে রিকশা চালাচ্ছিলেন,’ বলেন মিজ. সুইটি।

এরপর তিনি ‘রিকশা থেকে পড়ে যান’ বলেও উল্লেখ করেন।

তবে তিনিতো চাইলে অন্য রিকশায় উঠে যেতে পারতেন-সে প্রশ্ন করা হলে মিজ সুইটি স্বীকার করেন, ‘এমনটা করা হয়নি।’

এছাড়া তিনি জানান, এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এ নিয়ে পারিবারিক এবং সামাজিকভাবে তিনি লজ্জার মুখে পড়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আপনাকে বলে বোঝাতে পারবো না গতকাল (মঙ্গলবার) থেকে আমি কিসের মধ্যে আছি।’

ভিডিওতে কী আছে?

রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি রিকশার সিটে আরোহী একজন নারী। যিনি সমানে চিৎকার করছেন আর মারছেন সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রিকশা চালককে। লোকজন জড়ো হয়ে গেছে আশেপাশে। এমন একটি ভিডিও হঠাৎ ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে বিবিসি বাংলা।

ওই প্রতিবেদনে আরও তুলে ধরা হয়- অনেকের শেয়ার করা ভিডিওটিতে দেখা যায়, সালোয়ার কামিজ পরা রিকশারোহী ওই মহিলা রিকশাওয়ালাকে ‘তুই’ সম্বোধন করে কথা বলছেন।

ভিডিওটি যেখানে শুরু হয় সেখানে দেখা যায় রিকশাটি রাস্তার ধারে থেমে আছে এবং মারমুখী ভঙ্গিতে থাকা ওই নারীটি রিকশাওয়ালাকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, ‘তোরে আমি নিয়া ছাড়মু তুই যাবি…।’ এ সময় রিকশাওয়ালা কিছু বলে উঠলে ওই নারীটি বলেন, ‘তোর ভাড়ার গুষ্টি কিলাই, তোকে ডাবল (দ্বিগুণ) ভাড়া দিবো, তুই যাবি।’

এই ঘটনা দেখে দাঁড়িয়ে পড়া উৎসুক জনতার মধ্য থেকে কেউ একজন এই ভিডিওটি করেন। পরবর্তীতে সেটাই ভাইরাল হয়ে যায় সামাজিক মাধ্যমে।

রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা রিকশাওয়ালাকে প্রথমে দেখা যায়নি। তবে ওই নারী চালককে বলতে দেখা যায়, ‘যা চালা। চালা…চালা…।’

এরপর দ্রুত তিনি আবার উঠে বসেন রিকশায়। কিন্তু রিকশাওয়ালা তখন রাস্তায় জড়ো হয়ে যাওয়া লোকজনের দিকে তাকিয়ে বলতে থাকেন, ‘উনি বলতেছে তাড়াহুড়া কইরা চালাইতে…।’
তার কথার মাঝে ওই নারীটি বলে ওঠেন, ‘তোরে কী বলছি? আমি বলছি ভাই জোরে চালাও, তুই কী করলি ভাঙ্গাচুরাতে রিকশা…’ এ পর্যন্ত বলেই তিনি রিকশাওয়ালাকে আবার মারতে শুরু করেন।

এবার পা দিয়ে লাথি মারতে দেখা যায় তাকে। সেইসাথে গালিও দিতে থাকেন। তিনি বলেন, ‘তোরে সাবধান করছি, আমি তোরে কইছি তাড়াহুড়া কর…।’

মহিলাটি রিকশায় বসেই রিকশাটির চালককে এবার হাতে থাকা মোবাইল সেটটি দিয়ে মারেন।

এ সময় আশেপাশে দাঁড়ানো লোকজনের মধ্য থেকে কেউ কেউ প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ রূপে থাকা ওই নারীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি ওনাকে মারতেছেন কেন?’

এর জবাবে রিকশারোহী নারীটি তাদের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে ওঠেন। হাত নেড়ে বলেন, ‘যান এখান থেকে।’

এ সময় দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনের কয়েকজন প্রতিবাদ করলে ওই নারীটি তাদের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করতে থাকেন। লোকজনের মধ্য থেকে কাউকে কাউকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনিতো ভালো কাজ করতেছেন না।’

আরেকজন বলেন, ‘আপনি তো ভদ্রমহিলা না।’

অন্য একজন লোককে বলতে দেখা যায়, ‘আপনি মহিলা মানুষ। …রিকশাওয়ালাকে মেরে আপনি ভালো কাজ করেন নাই, গায়ে হাত তুলছেন…আমি এখানে দাঁড়াইয়া দেখছি…।’

একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘বেয়াদব মহিলা’। তবে তার মুখ দেখা যায়নি।

আরেকজন বলে ওঠেন, ‘আপনাকে কে পারমিশন (অনুমতি) দিয়েছে?’

এমন সময় রিকশা থেকে ওই মহিলাকে নেমে মারমুখী ভঙ্গিতে একজন পুরুষের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির দৈর্ঘ্য এই পর্যন্তই। সেখানে একজন নারীকেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে তাঁকে কোনও কথা বলতে ভিডিওতে দেখা যায়নি।

সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া

ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই এভাবে একজন নারীর মারমুখী আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

আবার কেউ কেউ ভিডিওটি শেয়ার করে ব্যঙ্গ-রসাত্মক বক্তব্য লেখেন। একটি অনলাইন পোর্টালের “জনসম্মুখে ‘পুরুষ নির্যাতন’, ভিডিও ভাইরাল” এই শিরোনামের খবরও অনেকে শেয়ার করেন।

আবার একজন নারীকে নিয়ে এভাবে ট্রল করার প্রতিবাদ করে সামাজিক মাধ্যমে লেখেন।

তাদের বক্তব্য- বাংলাদেশের অনেক স্থানেই যেখানে রাস্তাঘাটে রিকশা-চালক বা বাসের হেলপারদের মারতে দেখা যায়। কিন্তু এই ঘটনার ক্ষেত্রে হামলাকারীর ভূমিকায় একজন নারীকে দেখতে পেয়ে কি লোকজনের প্রতিক্রিয়া এত তীব্র? তারা এই ঘটনাকে সমর্থন না করলেও বলছেন, সেসব সময় কেন ভিডিও করা হয় না?

রোকসানা ইসলাম জেরিন তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ‘রিকশাওয়ালাকে এর আগে কেউ কোন দিন মারে নাই। এই প্রথম কেউ এভাবে মারলো। এই নারীর কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত।’

সেখানে মন্তব্য করেছেন যারা তার মধ্যে ডিজি সুখন নামে একজন লিখেছেন, ‘অবশ্যই মারছে, আমিও মারছি। বাট এই মা… এর জাতের লোকটার কথা বলার ধরন, ফিজিক্যাল মুভমেন্ট এবং বয়স্ক/সম্মানী ব্যক্তির সাথে বাকবিতণ্ডা একটু মনোযোগ দিয়ে দেখা আবশ্যক। এন্ড ইয়েস, তার গেট-আপ এবং জেশ্চার আমাদের চোখে অবশ্যই অশোভনীয়।’

একই পোস্টে শ্রাবণী জলি লিখেছেন, ‘মারছে কিন্তু ভিডিও হয় নাই’।

ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপেও এই ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। একটি গ্রুপে কবীর খান নামে একজন সেটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘একজন রিকশাচালক হিসেবে লোকটির দোষ সে ধীরে রিকশা চালাচ্ছিল! যাত্রী হিসেবে মহিলার ব্যবহার! মহিলাটাকে আইনের আওতায় নিয়ে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হোক।’

আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘একটা ছেলে গায়ে হাত তুললে সেটা যদি সামাজিক যোগাযোগে ভাইরাল না হয় তাহলে একজন নারী করলে সেটা হবে কেন?’

ইবিতে শিক্ষককে মারধর

জিয়া পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা কমিটির অনুমোদন না দেওয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনকে মারধর করেছেন এক কর্মকর্তা। মানজারে আলম মিরু নামের ওই কর্মকর্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্থাপন শাখার উপ-রেজিস্ট্রার। বুধবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার দিকে ক্যাম্পাসের ডরমিটরির নিজ কক্ষে এ মারধরের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মানজারে আলম মিরুকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বলে জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে নিজ কক্ষে বিশ্রাম করছিলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক এবং জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব ড. এমতাজ হোসেন।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্থাপন শাখার উপ-রেজিস্ট্রার মানজারে আলম মিরু ও তার দুই সহযোগী জিয়া পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা কমিটির আনুমোদনের জন্য তার কক্ষের সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। এরপর দরজা খুলে বের হয়ে তিনি বিশ্রাম করছেন বলে তাদেরকে জানান।

পরে মিরু ও তার দুই সহযোগী কমিটির আনুমোদনের বিষয়ে বললে তিনি ওই মুহূর্তে অস্বীকৃতি জানান এবং তাদের পরে আসতে বলেন। এরপর কমিটির আনুমোদন নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কাটাকাটির এক পর্যয়ে মিরু অধ্যাপক এমজাতকে কিলঘুষি মারতে শুরু করেন। পরে ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হলে তারা মিরুকে আটকে রাখে এবং পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করে। পুলিশ এসে মিরু ও তার দুই সহযোগীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এদিকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী। বুধবার রাতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনকে দেখতে গেলে এ নিন্দা জানান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মানজারে আলম মিরু এবং তার অফিসের পিয়ন নুরুজ্জামানকে পুলিশে দেয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, ‘ঘটনা শোনা মাত্রই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের আকট করেছি। তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।’

যে উপজেলায় কোনও এমবিবিএস ডাক্তার ও হাসপাতাল নেই!

জাতীয় ডেস্ক,দিগন্ত.নেট:নদী আর সাগর বেষ্টিত জনপদ রাঙ্গাবালী উপজেলায় দেড় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। ৬ বছর আগে এই জনপদকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু উপজেলাবাসীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিনেও সেখানে সরকারি হাসপাতাল গড়ে ওঠেনি। তাই একজন এমবিবিএস ডাক্তার পর্যন্ত নেই। ফলে সেখানকার মানুষের হাতুরে ডাক্তার-কবিরাজ কিংবা আদিকালের চিকিৎসার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

অবহেলিত এ উপজেলার অবস্থান পটুয়াখালী জেলা সদর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে। একমাত্র নদীপথ কেন্দ্রিক এ উপজেলার যোগাযোগ। এটির উত্তরে আগুনমুখা, পশ্চিমে রামনাবাদ, পূর্বে বুড়াগৌরাঙ্গ ও দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। ২০১২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়।

কিন্তু দীর্ঘ ৬ বছর অতিবাহিত হলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ হয়নি। তাই এমবিবিএস ডাক্তারও নেই। এর ফলে এ জনপদের দেড় লক্ষাধিক মানুষের হাতুরে ডাক্তার, হেকিম-কবিরাজ, বাইদা ও ক্যানভাসারের তাবিজ-কবজের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে।

উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া বাজার। সেখানকার রাজু মেডিসিন কর্নার নামের ঔষধের ফার্মেসিতে চিকিৎসা নিতে আসা একই এলাকার জেলে ঝিলাম হোসেনের (২৮) সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। যুগান্তরকে তিনি বলেন ‘দুই-তিন বছর ধইরা মাথা ব্যাথা। শরীর সব সময় অস্থির লাগে।

হাত-পা কাইপ্পা মাঝে মাঝে অজ্ঞান হইয়া যাই। কবিরাজ তেল দিছে, মালিশ করি। কোন কাজ ওয় (হয়) নাই। আমাগো এলাকায় তো হাসপাতাল নাই। বড় ডাক্তারও (এমবিবিএস) নাই যে, হেরে দ্যাহামু। শহরে গিয়া ডাক্তার দ্যাহানোর সামর্থ নাই। এহন এইহানের ফার্মেসি দিয়া প্রেত্যেক দিন ঔষধ নিয়া খাই। কপালে যা আছে হেইয়াই ওইবে।’

উপজেলা সদর থেকে নদীপথে ২০ কিলোমিটার দূরে চরমোন্তাজ ইউনিয়নের স্লুইস বাজার। সেই বাজারের মেসার্স রিপন মেডিকেল নামের এক ফার্মেসিতে চিকিৎসা নিতে বাচ্চা কোলে নিয়ে আসে নাজমা বেগম। যুগান্তরকে ওই নারী বলেন, ‘ছেলে জন্মের পর থেকেই শারীরিক অসুস্থতা। শরীর দুর্বল লাগে। মাঝেমাঝে অসুস্থ হয়ে পরি। হেকিমের সালশা খাইছি। তাতেও ভালো বুঝি না।

তাই ডাক্তার দ্যাহাইতে আইছি।’ এভাবে শুধু এই দুই এলাকাতেই নয়, উপজেলায় দেড় শতাধিক অনুমোদনবিহীন ফার্মেসির গ্রাম্য হাতুরে ডাক্তারদের ওপর ভরসা করছে লোকজন। যদিও রোগী দেখার জন্য অনেকেরই নেই কোন অনুমতি কিংবা ডিগ্রি। তবুও তারা রোগী দেখে ওষুধ বিক্রি করছে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় হেকিম-কবিরাজ, বাইদা ও ক্যানভাসাররা তাবিজ-কবজ দিয়ে চিকিৎসা চালাচ্ছে।

উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি-এ উপজেলায় অন্তত ৫০ শয্যা বিশিষ্ট একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হোক। স্থানীয়রা জানান, এ উপজেলার লোকজনের ভয়াল নদী পাড়ি দিয়ে দেশের যে কোন প্রান্তে যেতে হয়। একজন মুমূর্ষু রোগীকে জেলা সদরে নিতে সময়ও লেগে যায় প্রায় ৬-৭ ঘন্টা। তাও অনেক সময় খেয়া কিংবা লঞ্চ সময় মতো না পেলে দুর্ভোগের আর কোন শেষ থাকে না।

লঞ্চের সময় চলে গেলে একমাত্র ভরসা ইঞ্জিনচালিত ট্রলার। এতে সময় লাগে আরও বেশি। খরচও হয় প্রচুর। সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে অনেকের মৃত্যুও হয়। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জন্য ভোগান্তি হয় সবচেয়ে বেশি।

যেভাবে চলছে এ এলাকার চিকিৎসা: খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯১ সালের পরে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে রাঙ্গাবালী, ছোটবাইশদিয়া ও চরমোন্তাজে একটি করে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নে হয়নি। চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নে একটি আরডি (রুরাল ডিসপেনসারি) থাকায় ওখানেও কোন চিকিৎসা কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি।

এ কেন্দ্রগুলোতে চলছে নামমাত্র চিকিৎসা। এতে নেই কোন এমবিবিএস ডাক্তার। এমনকি অস্ত্রোপচারের বা প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই।

আর বেশিরভাগ সময়ই ওইসব কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ থাকে। যার ফলে ওইসব ক্লিনিকেও সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহাগ হাওলাদার যুগান্তরকে বলেন, ‘যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এই উপজেলায় একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স খুব জরুরি। হাসপাতালের প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য জেলা থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। তবে জমি অধিগ্রহণ এখনও হয়নি।’

রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘দুর্গম এই উপজেলাবাসীর চিকিৎসা সেবার কথা চিন্তা করে জরুরি ভিত্তিতে একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা দরকার। আশা করছি, খুব দ্রুত এখানে হাসপাতাল হবে।’

এ ব্যাপারে রোববার দুপুরে পটুয়াখালী সিভিল সার্জন সেলিম মিয়া যুগান্তরকে বলেন, ‘ইতিমধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং হেলথ ডিপার্টমেন্টের ইঞ্জিনিয়ার সাহেবকে আমি রাঙ্গাবালী পাঠিয়েছিলাম। এই অর্থবছরেই একটা কিছু সুফল পাওয়া যেতে পারে। এ বিষয়ের কাজ অগ্রসর হচ্ছে।’

দিগন্ত.নেট:আ/বি/গো

কেএমপি কমিশনারকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মো. হুমায়ুন কবিরকে প্রত্যাহার করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিবের কাছে বৃহস্পতিবার রাতে চিঠিটি পাঠানো হয়েছে বলে শনিবার রাতে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

উল্লেখ্য, গত ২২ নভেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং তৈরির জন্য ‘দলবাজ’ পুলিশ ও প্রশাসনের ৯২ কর্মকর্তার প্রত্যাহার চেয়ে তাদের তালিকা ইসিতে দেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ওই তালিকায় নাম ছিল খুলনা মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. হুমায়ুন কবিরের।

এবার প্রবাসীরা যেভাবে ভোট দিতে পারবেন

অাসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীরা বিদেশ থেকে ভোট দিতে পারবেন। ইতোমধ্যে প্রবাসীদের ভোট দিতে উৎসাহিত করতে দূতাবাসগুলোকে অবহিত করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পোস্টাল ব্যালট পেপারের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিদেশ থেকে ভোট দিতে পারবেন। প্রথমে প্রবাসীদের ব্যালট পেপারের জন্য বিদেশ থেকে ডাকযোগে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে দরখাস্ত করতে হবে।

দরখাস্ত ডাকযোগে বাংলাদেশে পৌঁছার পর প্রবাসীর দেয়া বিদেশের ঠিকানায় ডাকযোগে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। তারপর পছন্দের প্রতীকে ভোট দিয়ে পুনরায় ডাকযোগে রিটার্নিং অফিসারের কাছে ৩০ ডিসেম্বরের আগে ফেরত পাঠাতে হবে।

চিঠিতে প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে উৎসাহিত করতে ইসলামাবাদ, রিয়াদ, দিল্লি, কুয়ালালামপুর, দুবাই, নিউইয়র্ক, লন্ডন, ওয়াশিংটন, অটোয়া, রোম, প্যারিসসহ বিভিন্ন দূতাবাস থেকে প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রবাসী যাদের বাংলাদেশের ন্যাশনাল আইডি কার্ড আছে, যারা নির্বাচনের সময়ে ভোট দিতে বাংলাদেশে আসবেন না এবং পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে বিদেশ থেকে ভোট দিতে আগ্রহী, তাদের শিগগিরই নিজ নিজ জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে (জেলা প্রশাসক) পোস্টাল ব্যালটের জন্য দরখাস্ত পাঠাতে হবে।

দরখাস্তে ন্যাশনাল আইডি কার্ডের নম্বর, ন্যাশনাল আইডি কার্ডের অপর পৃষ্ঠায় থাকা ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে। বিদেশে যে ঠিকানায় ব্যালট পেপার পাঠাতে হবে, ওই ঠিকানা অবশ্যই দরখাস্তে উল্লেখ করতে হবে। বাংলাদেশ থেকে যে খামে করে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে, তার ডাক টিকিট খরচ নির্বাচন কমিশন বহন করবে। প্রবাসীরা ব্যালট পেপারের জন্য যে দরখাস্ত পাঠাবেন, তার ডাকটিকিট খরচ প্রবাসীদের বহন করতে হবে।

নির্বাচন আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী ভোট গ্রহণের ২১ দিন আগে প্রার্থীরা প্রচার শুরু করতে পারেন। ৩০ ডিসেম্বর ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সেই হিসাবে ১০ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু হচ্ছে। যদিও আগামীকাল ১০ ডিসেম্বর রিটার্নিং অফিসাররা ৩০০ আসনের বৈধ প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করবেন।

প্রতীক বরাদ্দের পরপরই মূলত প্রচার শুরু হবে প্রার্থীদের। ৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী ২৩ ডিসেম্বর ভোট হওয়ার কথা ছিল। পরে ১২ নভেম্বর পুনঃতফসিল করে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

তাবলীগের দ্বন্দ্বে জার্মান রাষ্ট্রদূতের বিস্ময়

জাতীয় ডেস্ক,দিগন্ত.নেট:তাবলীগের দ্বন্দ্বে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেন হোল্টজ। তিনি বলেন, মুসলমানদের নিজেদের বিষয়ে আরও সহিষ্ণু হওয়া উচিত। শান্তির ধর্মের গায়ে কোনো আঁচড় লাগানো ঠিক নয়। যা হচ্ছে তা খুবই নিন্দনীয়। শান্তিপ্রিয় তাবলীগের এ দ্বন্দ্বে আমরা বিস্মিত।

বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের সঙ্গে বৈঠকে এসব জার্মান রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।

সোমবার (৩ ডিসেম্বর) বিকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেন হোল্টজ আল্লামা মাসঊদের বারিধারার বাসভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে আরও বলেন, আমি এ দেশের আতিথেয়তায় মুগ্ধ। তারা অনেক মেহমানদারী করেন।

এ দেশের মানুষের চিন্তা ও দর্শনের সঙ্গেও আমাদের যথেষ্ট সামঞ্জস্য আছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছে। আমরাও আশ্রয় দিয়েছি।

জার্মান ও বাংলাদশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, দুই দেশের ভাষাগত একটা মিল আছে। সম্পর্কও অনেক ভালো। পিটার ফারেন হোল্টজ বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন,

আমরা একটি অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আশা করছি। স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দল এবার জাতীয় একাদশ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এত দল কখনোই নির্বাচনে অংশ নেয়নি।

জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেন সম্প্রতি টঙ্গীতে তাবলীগের দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষকে একটি দুঃখজনক অধ্যায় উল্লেখ করে এতে আইএসের কোনো সংযুক্তি আছে কিনা জানতে চাইলে শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, বাংলাদেশে কোনো আইএস নেই।

তবে জামায়াত আছে। প্রকৃত ইসলামী দলগুলোর মধ্যে এরা ঘাঁপটি মেরে সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। টঙ্গীতেও এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত হলে সঠিক বিষয়টি নিশ্চয়ই বেরিয়ে আসবে।

বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা মাসউদুল কাদির স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত বলেছেন, জার্মানি বাংলাদেশে অবাধ গণতন্ত্রের চর্চা দেখতে চায়। সেজন্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন জরুরি। আগামী

নির্বাচনে সব দল অংশ নেবে বলে আশা করছি। কোনো রাজনৈতিক দলই নির্বাচনের বাইরে থাকবে না।

বাংলাদেশের উন্নয়ন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করে জার্মান রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, জার্মানি বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী। আমরা বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তন, ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট, সুশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা করছি। জার্মানি সব সময় বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে আছে।

জাতীয় একাদশ নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু হতে পারে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেন হোল্টজ জানতে চাইলে আল্লামা মাসঊদ বলেন, স্বাধীনতার পর এত দল আর কখনোই একসঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেয়নি।

আমরা অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আশা করছি। জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেন আল্লামা মাসঊদের মানবকল্যাণে শান্তির ফতোয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি মনে করেন, মুসলমানদের ভাবামর্যাদা এই ফতোয়ায় আরও অত্যুজ্জ্বল হবে।

রাষ্ট্রদূত ফরীদ উদ্দীন মাসঊদকে জার্মানিতে একটি সেমিনারে আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, বিশ্বের ইসলামিক ইসলামিক স্কলারগণ জার্মানিতে আসেন। আমরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছি। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এই ফতোয়াও ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।

দিগন্ত.নেট:আ/বি/গো

বিশ্ব ইজতেমা মাঠ খুলে না দিলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

জাতীয় ডেস্ক,দিগন্ত.নেট:গাজীপুর টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠ খুলে না দিলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মাওলানা জুবায়েরপন্থী আলেম ওলামাগণ।

আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর টঙ্গীর কলেজ গেট এলাকায় পূর্ব নির্ধারিত বিক্ষোভ মিছিল শেষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা মাঠ খুলে দেয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশে আলেমরা বলেন, অনতিবিলম্বে ইজতেমা মাঠে আলেম ওলামা ও ছাত্রদের উপর হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অন্যথায় কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে। এছাড়া জুবায়েরপন্থী কোনো আলেম ওলামা এবং ছাত্র শিক্ষককে বিনা অপরাধে গ্রেফতার করা হলে পুরো টঙ্গীকে অচল করে দেয়ার হুমকিও দেন তারা।

তারা আরও বলেন, আগামী সোমবারের মধ্যে ইজতেমা ময়দান খুলে দেয়া না হলে মঙ্গলবার থেকে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।

এদিকে শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকার জুবায়ের পন্থী মুসল্লিরা টঙ্গীর বিভিন্ন মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হন। জুমার নামাজের পর থেকে মুসল্লিরা দলে দলে টঙ্গীর স্টেশন রোডের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে আসতে থাকেন।

এ সময় মুসল্লিদের ভিড়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

কলেজ গেট এলাকায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মাওলানা জুবায়েরপন্থী মুফতি মাসউদুল করীম, মুফতি মুহাম্মদ আবু বকর কাসেমী, মাওলানা জাহাঙ্গীর হোসেন কাসেমী, মুফতি মিজানুর রহমান, আনোয়ার হোসেন ফরিদী, মাওলানা মোছাদ্দেকুর রহমান, মাওলানা জাকির হোসেনসহ প্রমূখ।

পরে হামলায় আহতদের সুস্থতা ও তাবলিগি আলেম ওলামা মাশায়েখসহ মুসলমানদের শান্তি কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা ইউনুস শায়েদী।

এদিকে মুসল্লিদের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য টঙ্গী এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিল। যেকোনো নাশকতা রোধে পুলিশ ছিল বেশ তৎপর। পরে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই জুবায়ের পন্থীদের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষ হয়।

দিগন্ত.নেট:আ/বি/গো

তিন কারণে তাবলিগ জামাতের সংকট

জাতীয় ডেস্ক,দিগন্ত.নেট:ঐতিহ্যের ‘শুরা’ ভেঙে একনায়কতন্ত্রদাওয়াত ও তাবলিগের সংকট যেসব কারণে প্রকট আকার ধারণ করে, তার অন্যতম হলো, মাওলানা সাদ সাহেব সেখানে ঐতিহ্যবাহী শুরা ভেঙে আমিরতন্ত্র কায়েম করেছেন। এ বিষয়ে তাঁর একটি বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের আমির। যে আমাকে আমির মানবে না সে জাহান্নামে যাবে।’

তাঁর এ বক্তব্য রয়েছে ইউটিউবে : https://www.youtube.com/watch?v=x19atoW-v24

আসলে এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি তাবলিগের মধ্যে পরিবারতন্ত্র ও আমিরতন্ত্র কায়েম করতে চেয়েছেন। যদিও এ ঘটনার সূত্রপাত আরো বহু আগে। ১৯৬৫ সালে মাওলানা এনামুল হাসানকে আমির নির্বাচনের পর কিছু মেওয়াতি (ভারতে অবস্থিত তাবলিগের কেন্দ্রস্থল) ওই সময় বিরোধিতা করেন। তাঁরা মাওলানা সাদের বাবা মাওলানা হারুনকে আমির বানানোর দাবি জানান। মেওয়াতিরা বেশির ভাগই অশিক্ষিত ও সহজ-সরল।

তাঁরা দাবি করেন যে তাবলিগের এ কাজ যেহেতু মাওলানা ইলিয়াস শুরু করেছেন, সুতরাং যোগ্য হোক অযোগ্য হোক, আমাদের এই বংশ থেকেই হতে হবে। পরে অবশ্য মাওলানা হারুন (রহ.) এনামুল হাসান (রহ.)-কে আমির হিসেবে মেনে নেন। কিন্তু ১৯৯৫ সালে এনামুল হাসান (রহ.)-এর ইন্তেকালের পর ফিতনা অঙ্কুরিত হয় এবং মাওলানা জোবায়ের হাসান (রহ.)-এর ইন্তেকালের পর তা প্রকাশ্যরূপ লাভ করে। ফিতনার আশঙ্কা মাথায় রেখেই মূলত এনামুল হাসান (রহ.) যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও নিজের একমাত্র ছেলে মাওলানা জোবায়েরুল হাসান (রহ.)-কে তাঁর পরবর্তী আমির নির্বাচন না করে সারা বিশ্বের এই কাজ সামলানোর জন্য তিন দেশের যোগ্যদের সমন্বয়ে ১০ জনের ‘শুরা’ (পরামর্শ বোর্ড) বানিয়ে যান।

ওই ১০ জন সর্বপ্রথম যে পরামর্শসভায় বসেন, সেখানে এটাই সিদ্ধান্ত হয়, একক কোনো আমির নয়, তিনজনের ফয়সালায় নিজামুদ্দিন পরিচালিত হবে। আর নিজামুদ্দিনে বায়াত বন্ধ থাকবে। তিনজন হলেন—১. মাওলানা ইজহারুল হাসান, ২. মাওলানা জোবায়েরুল হাসান ও ৩. মাওলানা সাদ। এভাবেই প্রায় ১৯ বছর হজরতজি (রহ.)-এর বানানো শুরা বিশ্ব তাবলিগের কাজ পরিচালনা করতে থাকে।

অন্যদিকে হজরতজির বানানো শুরা কর্তৃক মনোনীত শুরা সদস্যরা নিজামুদ্দিনের পরিচালনাকার্য শুরু করার পর ১৯৯৬ সালে মাওলানা ইজহারুল হাসান (রহ.) ইন্তেকাল করেন। তাঁর ইন্তেকালের পর ওই শূন্যপদ পূরণের জন্য বারবার চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু মাওলানা সাদ তা বাস্তবায়ন করতে দেননি। ২০১৪ সালে মাওলানা জোবায়েরুল হাসান ইন্তেকাল করেন। তাঁর ইন্তেকালের পর কোনো পরামর্শের ব্যবস্থা না করে মাওলানা সাদ একক আধিপত্য বিস্তার করতে থাকেন।

মেওয়াত থেকে তাঁর অনুসারীদের নিজামুদ্দিন মারকাজে জড়ো করে রাখেন। তাঁর একক কর্তৃত্বে কাজ করার জন্য নিজামুদ্দিনের মুরব্বিদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। এর ফলে ২০১৫ সালের আগস্টে দোয়ার পর মোসাফাহা করাকে কেন্দ্র করে নিজামুদ্দিন মারকাজে প্রথম হাঙ্গামা হয়। অতঃপর ২৩ আগস্ট নিজামুদ্দিন বস্তির তাবলিগের জিম্মাদার সঙ্গীদের সঙ্গে মাশওয়ারার কক্ষে মাওলানা সাদের বাগিবতণ্ডা হয়।

একপর্যায়ে ওই মজলিসে মাওলানা সাদ নিজেকে আমির দাবি করেন। এতে পুরো বিশ্বের শান্তিপ্রিয় তাবলিগের সাথিরা অশান্ত হয়ে ওঠেন। এরপর কয়েকবার নিজামুদ্দিন মারকাজে মারধরের ঘটনা ঘটে। এমনকি একপর্যায়ে নিজামুদ্দিন মারকাজে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়, সারা বিশ্বের হেদায়েতের মারকাজে পুলিশ অবস্থান নিতে বাধ্য হয়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে এর আশু সমাধানকল্পে নিজামুদ্দিন মারকাজ, দারুল উলুম দেওবন্দ ও বিশ্বের অন্য মুরব্বিরা উদ্যোগী হন।

অতঃপর ২০১৫ সালের নভেম্বরে রায়বেন্ড ইজতেমায় একত্রিত হয়ে নিজামুদ্দিনের মুরব্বিরা মারকাজের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং হজরতজি ইনামুল হাসান (রহ.) কর্তৃক গঠিত শুরাকে পূর্ণাঙ্গ করার প্রস্তাব দেন। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে শুরা পূর্ণাঙ্গ করার ফয়সালা হয়। অবশেষে ১৩ জনের শুরা গঠন করা হয়। কিন্তু মাওলানা সাদ শুরা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ভারত ফিরে যান।

যারা মাওলানা সাদকে আমির মানবেন না, তিনি তাদের বলপ্রয়োগ করে নিজামুদ্দিন মারকাজ ত্যাগ করতে বাধ্য করেন। নিজামুদ্দিন মারকাজের যারা মূল দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা প্রায় সবাই মারকাজ ছেড়ে চলে যান, যার মধ্যে মাওলানা সাদের শিক্ষকরাও রয়েছেন। একে একে সবাই দিল্লি মারকাজ ত্যাগ করার পর ঐহিত্যবাহী ‘শুরা’ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়। শুরু হয় পরিবারতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র ও স্বৈরতন্ত্র। এর জের ধরে বিশ্বব্যাপী তাবলিগ জামাত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।

গ্রন্থনা : মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ

সাদ কান্ধলভির বিতর্কিত বক্তব্য
বর্তমানে দাওয়াত ও তাবলিগে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার অন্যতম কারণ হলো সাদ কান্ধলভি কোরআন-হাদিসবিরোধী মনগড়া বহু কথা প্রচার করেছেন। তাঁর সেসব বক্তব্য থেকে এখানে কয়েকটি কথা তুলে ধরা হলো—

মসজিদের বাইরে হেদায়েত নেই : সাদ কান্ধলভি বলেন, ‘মসজিদে ঈমানের আসর কায়েম করা ফরজ। মসজিদের বাইরে অন্য কোথাও হেদায়েত পাওয়া যাবে না।’ (সূত্র : দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া : ১৫)

মুসা (আ.)-এর ওপর অপবাদ : সাদ সাহেব বলেন, ‘মুসা আলাইহিস সালাম নিজের জাতির মধ্যে দাওয়াতের কাজ ছেড়ে আল্লাহ তাআলার সঙ্গে কথা বলার উদ্দেশ্যে নির্জনবাসে চলে গিয়েছিলেন। যার ফলে পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার বনি ইসরাইল গোমরাহ হয়ে যায় (মুরতাদ হয়ে যায়)।’ (সূত্র : দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া : ১৮)

তাবলিগের ৬ নম্বরই প্রকৃত ইসলাম : সাদ সাহেব বলেন, ‘যে ব্যক্তি এই ৬ নম্বরকে পূর্ণ দ্বিন মনে করে না, সে হলো ওই ব্যবসায়ীর মতো, যে নিজেই নিজের দধিকে টক বলে বেড়ায়। এমন ব্যবসায়ী কখনো সফল হতে পারে না।’ (সূত্র : দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া : ১৭)

হেদায়েত আল্লাহর হাতে নেই : সাদ সাহেব মনে করেন, ‘হেদায়েত যদি আল্লাহর হাতেই থেকে থাকে, তাহলে তিনি কেন নবীদের প্রেরণ করেছেন!’ তাঁর এই বক্তব্য কোরআনের সুরা কাসাসের ৫৬ নম্বর আয়াতসহ বহু আয়াতবিরোধী।

ক্যামেরা মোবাইল পকেটে থাকলে নামাজ হবে না : তিনি বলেন, ‘আমার মতে ক্যামেরাওয়ালা মোবাইল পকেটে রেখে নামাজ পড়লে নামাজ হবে না। ক্যামেরাযুক্ত মোবাইল থেকে দেখে দেখে কোরআন শোনা ও পড়া হারাম। এতে কোরআনের অবমাননা হয়। এর কারণে কোনো সওয়াব হবে না। যেসব আলেম তা বৈধ হওয়ার ফতোয়া দেন, তাঁরা উলামায়ে সু।’ (সূত্র : দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া : ১৬)

না বুঝে কোরআন পড়লে লাভ নেই : তিনি বলেন, কোরআন বুঝে পড়া প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ওয়াজিব। না বুঝে কোরআন পড়ার কারণে কোনো লাভ হবে না। এমন লোকের ওয়াজিব তরকের গুনাহ হবে।’ (সূত্র : দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া : ১৭)

তাঁর এই বক্তব্য মওদুদির বক্তব্যের প্রতিধ্বনি।

কোরআন পড়িয়ে অর্থ নেওয়া হারাম : তিনি বলেন, ‘বিনিময় নিয়ে কোরআনে কারিম পড়া নোংরা নারীর বিনিময়ের মতো। নোংরা নারী তার আগে জান্নাতে যাবে।’ (সূত্র : দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া : ১৬)

নিজামুদ্দিন থেকে বিচ্ছিন্ন হলে ধর্মত্যাগের গুনাহ হবে : তিনি বলেন, ‘সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ঈমান আনয়নের পর মদিনা থেকে ফিরে নিজের এলাকায় যাওয়াকে ইরতিদাদ তথা ধর্মত্যাগ মনে করতেন। কাজেই নিজামুদ্দিন মারকাজ (তাবলিগের মূল কেন্দ্র) থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়াকে সাধারণ বিষয় মনে কোরো না।’ (সূত্র : অব্যাহত বিভ্রান্তিকর বয়ান, পৃষ্ঠা ২৫)

আসহাবে কাহফের সঙ্গী কুকুর ছিল না : তিনি বলেন, ‘আসহাবে কাহফের সঙ্গী জন্তুটি কুকুর ছিল না; বাঘ ছিল।’ (সূত্র : অব্যাহত বিভ্রান্তিকর বয়ান, পৃষ্ঠা ৪৯)

তাঁর এ বক্তব্য পবিত্র কোরআনের সুরা কাহফের ১৮ নম্বর আয়াতবিরোধী।

নিজামুদ্দিন পৃথিবীর অন্যতম পবিত্র স্থান : তিনি বলেন, ‘এই স্থানটির (নিজামুদ্দিন) সম্মান কোরো। সমগ্র পৃথিবীর অবস্থা হলো এমন যে মক্কা-মদিনার পরে যদি এমন কোনো সম্মানিত জায়গা থাকে, যে জায়গাকে আদর্শ মনে করতে হয়, যে জায়গার অনুসরণ করতে হয়, যে জায়গাকে মহান মনে করতে হয়, তাহলে সেটি হলো এই নিজামুদ্দিন বাংলাওয়ালি মসজিদ।’

তাবলিগের মাশওয়ারা নামাজের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ : তিনি বলেন, ‘মুমিন যেভাবে গুরুত্বের সঙ্গে নামাজ আদায় করে, গুরুত্বের সঙ্গে মাশওয়ারায় (পরামর্শ) উপস্থিত থাকা এর চেয়েও অধিক জরুরি।’ (সূত্র : অব্যাহত বিভ্রান্তিকর বয়ান, পৃষ্ঠা : ৯)

তাবলিগের বাইরের কিতাব পড়া যাবে না : তিনি বলেন, ‘আমাদের কাজের (তাবলিজি) সঙ্গে লেগে থাকতে হবে এবং মাওলানা ইলিয়াছ ও মাওলানা ইউসুফ সাহেবের কিতাব পড়বে, অন্য কোনো কিতাব পড়বে না।’

আল্লাহর জিকির করে কিছুই অর্জন হয় না : তিনি বলেন, ‘সকাল সকাল কোরআন শরিফ তিলাওয়াত করা এবং নফল নামাজ পড়ার একটা অর্থ বুঝে আসে। কিন্তু আল্লাহ আল্লাহ জিকির করে কী অর্জন হয়? কিছুই হয় না।’

বি. দ্র. : এসব বিষয়ে দলিল ও প্রমাণসহ বিস্তারিত জানতে পড়ুন লেখকের তাবলিগ সিরিজের বইগুলো।

বিশেষত পড়ুন লেখকের অনূদিত গ্রন্থ মাওলানা সাদ সাহেবের সঙ্গে ‘আলেমদের দ্বিমত কেন’ গ্রন্থটি।

মাকতাবাতুল আযহার, ঢাকা, এপ্রিল ২০১৮ বইটি প্রকাশ করেছে।

গ্রন্থনা : আবদুল্লাহ আল ফারুক

তাবলিগের কাঠামো পরিবর্তন
তাবলিগ জামাতের সংকট ঘনীভূত হওয়ার আরো একটি কারণ হলো, সাদ সাহেব শত বছরের ঐতিহ্যবাহী তাবলিগের মূল কাঠামোতে মনগড়া ও অনর্থক পরিবর্তন এনেছেন। প্রথমেই তিনি নিজেকে সমগ্র উম্মতের ‘আমির’ বলে দাবি করেন। অথচ কোনো পরামর্শসভায় তাঁকে আমির বানানো হয়নি। বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে তিনি নিজামুদ্দিন দখল করেন। তাঁর ওস্তাদসহ সব আলেমকে সেখান থেকে বের করে দেন, বের করতে গিয়ে আলেমদের শরীর থেকে রক্ত ঝরাতেও কসুর করেননি। (সূত্র : দাওয়াত ও তাবলিগ, ড. মুহাম্মদ আবদুল হাননান, বিশ্বসাহিত্য ভবন, নভেম্বর, ২০১৮ ভূমিকা দ্রষ্টব্য, পৃষ্ঠা ১৩)

তাবলিগ জামাতের স্বপ্নদ্রষ্টা মাওলানা ইলিয়াস (রহ.), মাওলানা ইউসুফ (রহ.) এবং মাওলানা এনামুল হাসানের পদ্ধতির বাইরে তিনি নানা রকম তত্ত্ব ও বয়ান উপস্থিত করেন। পরামর্শের উদ্দেশ্য, তালিমের উদ্দেশ্য, ছয় সিফত ইত্যাদিতে তিনি এত কালের বর্ণনা বাদ দিয়ে নিজের থেকে নতুন নতুন জিনিস হাজির করেন। ১৯২০ সাল থেকে চলে আসা তাবলিগের ছয় মূলনীতির ব্যাখ্যা ছিল এক ধরনের। (দেখুন : ড. মুহাম্মদ আবদুল হাননানের কলাম, তাবলিগ জামাতের ছয় মূলনীতি, দৈনিক কালের কণ্ঠ : ১৩-০১-২০১৭)

কিন্তু সাদ এসে এই মূলনীতি বদলে দেন। (দেখুন : ছয় নম্বর ও তাবলিগের বয়ান, মাওলানা লুত্ফর রহমান সংকলিত, মাকতাবাতুল মিসবাহ, ঢাকা, ২০১৬)

এত দিন তাবলিগ জামাতের যে পরামর্শসভার পদ্ধতি ছিল, যা একেবারে চূড়া থেকে তৃণমূল পর্যন্ত ছিল, তা-ও তিনি বাদ দিয়ে দেন।

ধীরে ধীরে সাদ সাহেব তাবলিগ জামাতে ব্যাপক বিকৃতি ঘটাতে থাকেন। যেমন—দৈনন্দিনের মেহনতের মধ্যে দাওয়াত, তালিম ও ইসতিকবাল (পরবর্তী সময় নাম রাখা হয় ‘মসজিদ আবাদির মেহনত’) অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে উমুমি গাশতের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়ে; অথচ এই উমুমি গাশতই ছিল তাবলিগের মেরুদণ্ড। এর ফলে এই মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। সমাজের বিশেষ লোকদের মধ্যে মেহনত করাকে ‘তবাকাতি মেহনত’ নাম দিয়ে এই মেহনতের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ফলে উম্মতের বিশেষ শ্রেণি এই মেহনত থেকে মাহরুম হয়ে যায়। মাসতুরাতের তালিমের মধ্যে পাঁচটি বিষয় যুক্ত করা হয়। বিদেশি দেশগুলোতে চার মাসের পরিবর্তে পাঁচ মাসের তরতিব বানিয়ে দেওয়া হয়।

১৯৯৬ সালের আগস্ট মাসে মাওলানা ইজহারুল হাসান সাহেবের ইন্তিকালের পর সাদ সাহেব নিজামুদ্দিনের কোষাগারও হাতের মুঠোয় নিয়ে নেন। আয়-ব্যয়ের নিয়মমাফিক কোনো হিসাব-নিকাশ এখন আর তৈরি হয় না। এমনকি মজলিশে আমেলার সামনেও কোনো বিবরণী উপস্থাপন করা হয় না।

আরেকটি নতুন কাজ হলো, ফাজায়েলের কিতাবগুলোর তালিম বাদ দিয়ে ‘মুনতাখাব হাদিস’কে গুরুত্ব দেওয়া হয়। অথচ কোনো সুরাই কখনো এ কিতাবকে জামাতের সিদ্ধান্তকৃত নিসাবে অন্তর্ভুক্ত করেনি। উপরন্তু এ কিতাবকে মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ (রহ.)-এর ‘চয়ন-নির্বাচন’ বলা হচ্ছে। বাস্তবতা হলো, এ বইয়ের হস্তলিপি বা পাণ্ডুলিপি আজ পর্যন্ত কেউ দেখেনি। কারো সঙ্গে এ নিয়ে তিনি আলাপ-আলোচনাও করেননি!

এত কিছু করেই তিনি থেমে যাননি। তিনি বদলে দেন নামাজের কাঠামোও! নিজামুদ্দিন মসজিদের এই জায়নামাজে তাঁর পরদাদা, দাদা ও পিতা; এমনকি নানাদের মতো ব্যক্তিদের যে পদ্ধতিতে নামাজ নিজে পড়েছেন, অন্যদের পড়িয়েছেন, এখানে-সেখানে বড় দাগে পরিবর্তন করেন এভাবে যে কাওমা (রুকু থেকে উঠে দাঁড়ানো অবস্থায়) ও জলসায় (দুই সিজদার মাঝখানে বসা অবস্থায়) সেই এমন সব দোয়া পাঠ করা শুরু করে দেন,

যা হানাফি মাজহাব অনুসারে ফরজ নামাজে নয়; শুধু নফল নামাজে পড়া যাবে। এমন পরিবর্তনে গোটা জামাত বিস্মিত হয়; কিন্তু কেউ ‘উফ’ বলার সাহস পায়নি। একজন এ ব্যাপারে কারণ জানতে চাইলে তিনি জবাব দেন, ‘আমি মুহাম্মাদি। আমি সুন্নাহ অনুসরণ করি।’ এভাবেই তিনি তাবলিগ ও নামাজের কাঠামো বদলে দেন। (সূত্র : চৌধুরী আমানত উল্লাহ, সদস্য, মজলিশে আমেলা, মাদরাসায়ে কাশেফুল উলুম, বাংলাওয়ালি মসজিদ, নয়াদিল্লি; অনুবাদ : আবদুল্লাহ আল ফারুক, মাকতাবাতুল আসআদ, ঢাকা, ৫ আগস্ট ২০১৭)

গ্রন্থনা : মুফতি আরিফুর রহমান

দিগন্ত.নেট:আ/বি/গো

বাংলাদেশ আইসিসি ব্যুরো সদস্যের তালিকায়

আগামী ২০১৯-২০ সালের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ব্যুরো সদস্যের তালিকায় যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ।

নেদারল্যান্ডসের হেগে বুধবার থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী রোম স্ট্যাচুটের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের ১৭তম অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ ব্যুরো সদস্য নির্বাচিত হয়।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সদস্য হিসেবে ২০১৯ সালের জন্য বাংলাদেশ, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান এবং ২০২০ সালে বাংলাদেশ, দক্ষিণ কোরিয়া ও ফিলিস্তিন ব্যুরোর প্রতিনিধিত্ব করবে।

২০১০ সালে আইসিসির সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে যোগদানের পর এই প্রথম বাংলাদেশ ব্যুরোর সদস্য হিসেবে কাজ করতে যাচ্ছে।

১২৩ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ২১ রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত ‘ব্যুরো’ আইসিসির শীর্ষ পরামর্শক পর্ষদ হিসেবে পরিগণিত।

সাধারণত ব্যুরোর কাজ হচ্ছে-আইসিসির বাজেট চূড়ান্তকরণ, বিচারক, প্রসিকিউটর, ডেপুটি প্রসিকিউটর নির্বাচন সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।

মনোনয়নপত্র বাতিল: দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানি চলছে

দ্বিতীয় দিনের মতো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিল আবেদনের শুনানি শুরু হয়েছে।

রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের ১১তলায় এজলাসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদাসহ অন্য কমিশনাররা শুনানি করছেন।

শুক্রবার সকাল ১০টায় শুরু হওয়া শুনানি জুমার নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতি দিয়ে সম্পন্ন করবে ইসি।

আজ বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে ১৫০ জনের শুনানি হবে।

সিরিয়াল নম্বর অনুযায়ী-আজ ১৬১ থেকে ৩১০ নম্বর পর্যন্ত এবং আগামীকাল শনিবার শেষ দিন ৩১১ থেকে ৫৪৩ নম্বর আবেদনের শুনানি হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এ আপিল শুনানি শুরু হয়।

সারা দেশ থেকে আসা ৫৪৩ আপিল আবেদনের প্রথম দিন ১৬০ জনের শুনানি হয়।

এর মধ্যে ৮০ প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করা হয়।

অন্যদিকে রিটার্নিং কর্মকর্তার বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে ৭৬ জনের।

এ ছাড়া চার প্রার্থীর আবেদন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

মেম্বারের ভাড়া বাড়িতে নীলার আস্তানা, ভিড় জমে তরুণদের

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মিথুনের ফুল্লশ্রী গ্রামের বাড়িটি দুই মাস আগে ভাড়া নেন নীলা (২৪) নামের এক তরুণী।

এরপর থেকে মেম্বারের বাড়িতে আনাগোনা বেড়ে যায় তরুণদের। স্কুল-কলেজ ও এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছেলেরা প্রতি রাতে আসা-যাওয়া করে। ধীরে ধীরে তরুণদের ভিড় জমে নীলার বাসায়।

কেউ কেউ আবার নীলার বাসায় ৪-৫ দিন থেকে যেত। অতিথিদের জন্য খাবার ও বিনোদনের বিশেষ ব্যবস্থা ছিল নীলার। উঠতি বয়সী ছেলেদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় সন্দেহ হয় এলাকাবাসীর। তবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছেলেদের সঙ্গে সখ্য থাকায় নীলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সাহস পেত না কেউ।

অবশেষে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশকে বিষয়টি জানায় এলাকাবাসী। ৩০ নভেম্বর রাতে পুলিশ অভিযান চালায় নীলার বাসায়। এ সময় ২০ পিস ইয়াবাসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

এ সময় নীলা ও তিন তরুণকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- একই এলাকার কামাল পাইকের ছেলে রফিকুল ইসলাম পাইক, শাওন হালাদার ও আলী হোসেন। গ্রেফতার নীলা আগৈলঝাড়া উপজেলার বাসিন্দা। নীলাকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

পুলিশ জানায়, স্কুলজীবনের বখাটে বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে মিলে খারাপ কাজে জড়ায় নীলা। নীলার বাবা বাংলাদেশ বেতারে চাকরি করতেন।

বাবার চাকরির সুবাদে ঢাকায় থেকে পড়ালেখা অবস্থায় নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে নীলা। নেশার জগতে পা দেয়ার কারণে লেখাপড়ায় বেশি দূর না এগোতে পারেনি। বিয়ে দিলেও টেকেনি সংসার।

একাধিক বিয়ের পর নিজের পছন্দে ঢাকার মিরপুরে ওসমান গণি সাফিন নামের এক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করে নীলা। স্বামীর আগের সংসার থাকায় স্বামীর ঘরে উঠতে পারেনি নীলা।

বাধ্য হয়ে বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে। মাঝেমধ্যে নীলার কাছে আসে তার স্বামী ওসমান গণি। দাম্পত্য জীবনে নীলা এক কন্যা সন্তানের মা হলেও মেয়েটি মারা যায়। এরপর নীলা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

এভাবে মাদক সেবী থেকে নীলা পা বাড়ায় মাদক ব্যবসায়। নিজের সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, বিদেশ ফেরত তরুণদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে।

পাশাপাশি সখ্যতা গড়ে তোলে বড় বড় মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে। ধনাঢ্য মাদকসেবীদের টাকায় নীলা গড়ে তোলে মাদকের সিন্ডিকেট। নিজের ভাড়া বাসায় দিন-রাত চলে মাদক সেবন ও ব্যবসা।

চলে বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ড। নীলার বাসায় প্রতিদিন যাওয়া-আসা করে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছেলেরা। প্রভাবশালীদের সঙ্গে সখ্যতার কারণে আশপাশের কেউ নীলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পেত না। মাঝেমধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বেড়াতে যেত নীলা।

এর আগে গৌরনদীতে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকা অবস্থায় নীলার মাদক ব্যবসা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে স্থানীয়রা। পরে আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের মেম্বার মিথুনের বাড়ি ভাড়া নেয়।

মাদক আর টাকার পাহাড় গড়ে তোলার নেশায় একপর্যায়ে মাদক সম্রাজ্ঞী বনে যান নীলা। এরই ধারাবাহিকতায় নিজের বাড়িতে মাদকের আস্তানা গড়ে তোলে। সেখানে অবস্থান করা নীলার অতিথিরা ঘর থেকে বের হত না। অতিথিদের খাবার, বিনোদন ও মাদক সেবনের সব ব্যবস্থা ছিল নীলার বাসায়।

বাড়ির মালিক আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মিথুন বলেন, দুই মাস আগে বাসা ভাড়া নেয় নীলা। কিছুদিন আগে জানতে পারি নীলা খারাপ কাজে জড়িত।

তাই বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার নোটিশ দিয়েছি তাকে। গত ১ ডিসেম্বর বাসা ছাড়ার কথা থাকলেও ৩০ নভেম্বর রাতে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের ওসি মো. আফজাল হোসেন বলেন, এত বড় মাদকের সিন্ডিকেটের কথা আমি জানতাম না। নীলাকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নীলাকে গ্রেফতারের পর এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।

উৎসঃ jagonews24

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বসলেন পাইলটের আসনে

ফিতা কেটে ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ ‘হংসবলাকা’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধন শেষে তিনি বিমানটির ভেতরে পরিদর্শন করেন। খানিকক্ষণ বসেন পাইলটের আসনেও।

আজ (বুধবার) দুপুরে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে ভিভিআইপি টার্মিনালের টারমার্কে বোয়িং ৭৮৭-৮ মডেলের দ্বিতীয় ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটি পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এসময় শেখ হাসিনা ২৭১ আসনের এ উড়োজাহাজটিতে উঠে ককপিটসহ বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ‘গাঙচিল’ ও ‘রাজহংস’ নামের আরও দুটি বিমান ড্রিমলাইন বহরে যুক্ত হবে বলে জানা গেছে।হংসবলাকা বিমানসহ দেশের বাংলাদেশ বিমানবহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা হলো ১৫টি।

এটি ড্রিমলাইনারের দ্বিতীয় বোয়িং। এর আগে গত ১৯ আগস্ট প্রথম ড্রিমলাইনার ‘আকাশবীণা’ ঢাকায় আসে।উল্লেখ্য, বোয়িং ৭৮৭-৮ মডেলের দ্বিতীয় ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটির নাম হংসবলাকা প্রধানমন্ত্রী নিজেই রেখেছেন।

গত মাসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে হংসবলাকা আকাশে উড়বে। ওই দিন থেকে ২৭১ আসনের এই ড্রিমলাইনারে ঢাকা-লন্ডন রুটে সপ্তাহে ৬টি, ঢাকা-দাম্মাম রুটে সপ্তাহে ৪টি এবং ঢাকা-ব্যাংকক রুটে সপ্তাহে ৩টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

উল্লেখ্য, ড্রিমলাইনার ঘণ্টায় ৬৫০ কিলোমিটার বেগে উড়তে সক্ষম। উড়োজাহাজের শব্দ কমাতে ইঞ্জিনের সঙ্গে শেভরন প্রযুক্তি যুক্ত রয়েছে।বিমানটি নিয়ন্ত্রিত হবে ইলেকট্রিক ফ্লাইট সিস্টেমে। কম্পোজিট ম্যাটেরিয়াল দিয়ে তৈরি হওয়ায় বিমান ওজনে হালকা।

ভূমি থেকে বিমানটির উচ্চতা ৫৬ ফুট। দুটি পাখার আয়তন ১৯৭ ফুট। এর মোট ওজন ১ লাখ ১৭ হাজার ৬১৭ কিলোগ্রাম, যা ২৯টি হাতির সমান! এর ককপিট থেকে টেল (লেজ) পর্যন্ত ২৩ লাখ যন্ত্রাংশ রয়েছে।

২৭১টি আসনের মধ্যে বিজনেস ক্লাস ২৪টি আর ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাস। বিজনেস ক্লাসে ২৪টি আসন ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড সুবিধাযুক্ত।এছাড়াও এতে যাত্রীদের জন্য রয়েছে ওয়াইফাই সুবিধা এবং আকাশে উড্ডয়নকালীন ফোন কল করা যাবে।

ফিতা কেটে ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ ‘হংসবলাকা’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধন শেষে তিনি বিমানটির ভেতরে পরিদর্শন করেন। খানিকক্ষণ বসেন পাইলটের আসনেও।

আজ (বুধবার) দুপুরে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে ভিভিআইপি টার্মিনালের টারমার্কে বোয়িং ৭৮৭-৮ মডেলের দ্বিতীয় ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটি পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এসময় শেখ হাসিনা ২৭১ আসনের এ উড়োজাহাজটিতে উঠে ককপিটসহ বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ‘গাঙচিল’ ও ‘রাজহংস’ নামের আরও দুটি বিমান ড্রিমলাইন বহরে যুক্ত হবে বলে জানা গেছে।হংসবলাকা বিমানসহ দেশের বাংলাদেশ বিমানবহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা হলো ১৫টি। এটি ড্রিমলাইনারের দ্বিতীয় বোয়িং। এর আগে গত ১৯ আগস্ট প্রথম ড্রিমলাইনার ‘আকাশবীণা’ ঢাকায় আসে।উল্লেখ্য, বোয়িং ৭৮৭-৮ মডেলের দ্বিতীয় ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটির নাম হংসবলাকা প্রধানমন্ত্রী নিজেই রেখেছেন।

গত মাসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে হংসবলাকা আকাশে উড়বে। ওই দিন থেকে ২৭১ আসনের এই ড্রিমলাইনারে ঢাকা-লন্ডন রুটে সপ্তাহে ৬টি, ঢাকা-দাম্মাম রুটে সপ্তাহে ৪টি এবং ঢাকা-ব্যাংকক রুটে সপ্তাহে ৩টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

উল্লেখ্য, ড্রিমলাইনার ঘণ্টায় ৬৫০ কিলোমিটার বেগে উড়তে সক্ষম। উড়োজাহাজের শব্দ কমাতে ইঞ্জিনের সঙ্গে শেভরন প্রযুক্তি যুক্ত রয়েছে।বিমানটি নিয়ন্ত্রিত হবে ইলেকট্রিক ফ্লাইট সিস্টেমে। কম্পোজিট ম্যাটেরিয়াল দিয়ে তৈরি হওয়ায় বিমান ওজনে হালকা।

ভূমি থেকে বিমানটির উচ্চতা ৫৬ ফুট। দুটি পাখার আয়তন ১৯৭ ফুট। এর মোট ওজন ১ লাখ ১৭ হাজার ৬১৭ কিলোগ্রাম, যা ২৯টি হাতির সমান! এর ককপিট থেকে টেল (লেজ) পর্যন্ত ২৩ লাখ যন্ত্রাংশ রয়েছে।

২৭১টি আসনের মধ্যে বিজনেস ক্লাস ২৪টি আর ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাস। বিজনেস ক্লাসে ২৪টি আসন ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড সুবিধাযুক্ত।এছাড়াও এতে যাত্রীদের জন্য রয়েছে ওয়াইফাই সুবিধা এবং আকাশে উড্ডয়নকালীন ফোন কল করা যাবে।

jugantoর