নারী নেতৃত্বকে এগিয়ে নিয়েছে আমাদের উপমহাদেশের নারীরাই

পলিটিক্স ডেস্ক,দিগন্ত.নেট:‘নারী নেতৃত্বকে এগিয়ে নিয়েছে আমাদের উপমহাদেশের নারীরাই। আমরাই প্রথম প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়েও নারীদের অধিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছি।’

রোববার (৯ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রোকেয়া দিবস উপলক্ষে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি একথা জানান।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিবছর বেগম রেকেয়া দিবসে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর এ দিন সারা দেশে সরকারিভাবে রোকেয়া দিবস পালন করা হয়।

এ বছরে বেগম রোকেয়া পুরস্কার পেলেন- সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জিন্নাতুনন্নেসা তালুকদার, প্রফেসর জোগরা আনিস, শীলা রায়, রমা চৌধুরী (মরনোত্তর) ও রোকেয়া বেগম। পদকপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ২৫ গ্রাম স্বর্ণের পদক, একটি সার্টিফিকেট ও দুই লাখ করে টাকা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথেই নারী শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান সরকার। রোকেয়ার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে নিজেদের উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে এদেশের নারীসমাজ জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে ভূমিকা রাখবে।’

তিনি বলেন, ‘সন্তানের পরিচয়ে মায়ের নাম আমরাই প্রথম অন্তর্ভুক্ত করেছি। মা জন্ম দেন। মা-ই বোঝেন সন্তান জন্ম দেওয়ার কষ্ট। নারীরা অনেক কষ্টসহিষ্ণু। পুরুষদের গড় আয়ু বর্তমানে ৭১, নারীর ৭৩, গড় ৭২। এ থেকেও স্পষ্ট হয় নারী বেশি কষ্টসহিষ্ণু।’

দিগন্ত.নেট:আ/বি/গো

পলকের আয় বাড়েনি !

পলিটিক্স ডেস্ক,দিগন্ত.নেট:মন্ত্রিসভার আট সদস্যের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মন্ত্রী হওয়ার পর তাঁদের আয় বেড়েছে, বেড়েছে সম্পদও। অনেকেরই আয়ের বড় উৎস মন্ত্রী হিসেবে পাওয়া ভাতা। অবশ্য কেউ কেউ ব্যবসা থেকে বাড়তি আয় দেখিয়েছেন।

হলফনামায় মন্ত্রীরা স্ত্রীসহ নির্ভরশীলদের সম্পদের বিবরণও দিয়েছেন। দেখা যাচ্ছে, তাঁদের স্ত্রীদের সম্পদও বেড়েছে। আবার উভয়েরই নগদ অর্থ ছাড়াও আছে নানা ধরনের বিনিয়োগ।

তবে প্রতিমন্ত্রী হওয়া সত্বেও আয় বাড়েনি নাটোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের। পাঁচ বছরে পলকের আয় বেড়েছে মাত্র ৪০ হাজার ৪৯ টাকা।

বিগত দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া মনোনয়নপত্রের সাথে দাখিলকৃত হলফনামায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেয়া হলফনামা অনুযায়ী পেশায় বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের একজন আইনজীবী হলেও জুনাইদ আহমেদ পলকের কৃষিখাত থেকে বাৎসরিক আয় ৪৮ হাজার টাকা, ভাড়া থেকে ৬০ হাজার, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সম্মানী ১১ লাখ ৪ হাজার, ব্যাংক আমানতের সুদ এবং টকশো থেকে ৬ লাখ ৩০ হাজার ৪৯ টাকা।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় কৃষিখাতে পলকের আয় ছিলো ৪২ হাজার টাকা, ভাড়া থেকে আয় ৬০ হাজার টাকা, ব্যবসায় থেকে আয় ১ লাখ টাকা, শেয়ার থেকে আয় ১ লাখ ৬৩ হাজার ২৫২ টাকা, আইন পেশা থেকে আয় ১৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা ও টকশো থেকে ২০ হাজার টাকা।

সর্বসাকুল্যে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় পলকের আয় ছিলো ১৮ লাখ ২ হাজার ৭৫২ টাকা। তবে পাঁচ বছরের ব্যবধানে পলকের আয় মাত্র ৪০ হাজার ৪৯ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৮ লাখ ৪২ হাজার ৪৯ টাকা।

দিগন্ত.নেট:আ/বি/গো

ষড়যন্ত্রের আভাস পাক দূতাবাসে ফখরুলের ‘যাতায়াত’

পলিটিক্স ডেস্ক,দিগন্ত.নেট:নির্বাচনের আগে পাকিস্তান দূতাবাসে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘যাতায়াত’ ষড়যন্ত্রের আভাস দেয় বলে মন্তব্য করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

রোববার দুপুরে ধানমণ্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান।

তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রের সঙ্গে আরেকটি রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে দূতাবাসে যাতায়াত থাকতে পারে। তবে আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে পাকিস্তান দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ জনমনে প্রশ্নের সঞ্চার করে।

‘একদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের গোপন বৈঠক, অন্যদিকে পাকিস্তানি দূতাবাসে মির্জা ফখরুলের সাক্ষাৎ ও গোপন বৈঠক ষড়যন্ত্রের আভাস দেয়।’

তবে কবে কখন মির্জা ফখরুল পাকিস্তান দূতাবাসে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে কিছু জানাননি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

আব্দুর রহমান বলেন, দুই বৈঠক একই সূত্রে গাঁথা। সেই জায়গা থেকে আমরা মনে করি, এ সাক্ষাৎ আসন্ন নির্বাচন বানচালে ষড়যন্ত্রের অংশ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনীতিকে বিনষ্ট করার দুরভিসন্ধি রয়েছে।

আওয়ামী লীগের শরিক জাতীয় পার্টি কতগুলো আসন পাচ্ছে-জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজকে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। এ বিষয়টি আমরা পরিষ্কার করতে পারব আজ বিকাল নাগাদ। এ ব্যাপারটি জানার জন্য আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে।

কত আসনে জাতীয় পার্টির সঙ্গে মীমাংসা হয়েছে, জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, এ মুহূর্তে আনুমানিক কিছু সংবাদমাধ্যমে বলা উচিত হবে না। আমরা আশা করি, সন্তোষজনক একটি মীমাংসা হবে।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খোলা চিঠির আহ্বানে সবাই সাড়া দিয়েছেন। যে কয়জন বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন, আমাদের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী- দুই থেকে তিনজন বাকি আছে মনোনয়ন প্রত্যাহারে।

আব্দুর রহমান বলেন, আমরা আশা করছি-বাকিগুলো আজকে প্রত্যাহার হয়ে যাবে। তাদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে না।

দিগন্ত.নেট:আ/বি/গো

খালেদা জিয়াকে একমাত্র তিনিই পারেন ক্ষমা করতে

পলিটিক্স ডেস্ক,দিগন্ত.নেট:আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খালেদা জিয়ার দণ্ড একমাত্র রাষ্ট্রপতি ছাড়া অন্য কেউ ক্ষমা করতে পারবেন না। তিনি আবেদন করলে রষ্ট্রপতির কাছে করতে হবে।

রোববার দুপুরে ফেনী পৌর প্রাঙ্গণে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দুই বছরের অধিক দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচন করতে পারবেন না।

এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের আপিলের রায়েও খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্বাচন করার বিষয়টি আদালতের ব্যাপার। তার এ দণ্ড একমাত্র রাষ্ট্রপতি ছাড়া অন্য কেউ ক্ষমা করতে পারবেন না। তিনি আবেদন করলে রাষ্ট্রপতির কাছে করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে একটি সুন্দর নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজ করছে। এ পরিবেশ নষ্ট হলে বিএনপির জন্যই হবে। বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিতরা তাদের সেক্রেটারি জেনারেলের অফিসে গিয়ে দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছেন। যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে; কিন্তু মনোনয়ন পাননি তারাই হামলা করছেন।

বর্তমান মন্ত্রিসভা সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই এমন নিয়ম রয়েছে। আমি মন্ত্রী হয়েও আমার নির্বাচনী এলাকায় পতাকাযুক্ত গাড়ি নিয়ে সভা-সমাবেশে যাচ্ছি না। গণসংযোগ করে নির্বাচনের আচরণবিধি ভঙ্গ করছি না। নোয়াখালীর ডিসি-এসপিকে আমার গণসংযোগে যোগ না দিতে নির্দেশ দিয়েছি।

নির্বাচনের পরিবেশ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ ঠিকই আছে। ‘৭৫-পরবর্তী যে কোনো সময়ের পর থেকে তুলনামূলক অনেক সুন্দর পরিবেশ রয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেনী-২ আসনের এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী, মহিলা সংসদ সদস্য জাহানারা বেগম সুরমা, ফেনী-১ আসনের এমপি শিরীন আখতার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বিকম প্রমুখ।

দিগন্ত.নেট:আ/বি/গো

বোনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে সোহেল তাজ

পলিটিক্স ডেস্ক,দিগন্ত.নেট:একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে তানজীম আহমেদ সোহেল তাজ।তিনি যে আসন থেকে নির্বাচন করতেন সেখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন তার বোন সিমিন হোসেন রিমি।

সিমিন হোসেন রিমি এই আসনে টানা দুবারের সংসদ সদস্য। সোহেল তাজ পদত্যাগ করার পর গাজীপুর-৪ আসনে উপনির্বাচন করে বিজয়ী হয় তাজউদ্দীন কন্যা।পরে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন।

এবারও সিমিন হোসেন রিমির ওপরই আস্থা রেখেছে আওয়ামী লীগ।আর তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে নামছেন সোহেল তাজ।তিনি ভোটের মাঠ চষে বেড়াবেন।তাজউদ্দীন আহমেদ, সোহেল তাজের ব্যক্তি ইমেজ কাজে লাগিয়ে আসনটি ধরে রাখার চেষ্টা করছে তাজউদ্দীন পরিবার।

সোহেল তাজ আজ রোববার তার বাড়ি কাপাসিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী রিমির পক্ষে মাঠে নামবেন বলে জানা গেছে।

এক সময় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা সোহেল তাজ রাজনীতি থেকে দূরে। তাই এবারও মনোনয়ন চান নি তিনি।নিজে রাজনীতি থেকে দূরে সরলেও বোনের পক্ষে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সোস্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় এই রাজনীতিক।

বড়বোনের পক্ষে কাজ করতে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরেন সোহেল তাজ।স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে এ কয়দিন কুশল বিনিময় করে সময় কাটান তিনি।রিমির নির্বাচনী মাঠ নির্বিঘ্ন ও সহজ করতে নিয়েছেন কিছু কৌশল।

সোহেল তাজ আজ সকালে কাপাসিয়ায় একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানে নেতা-কর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী নানা কৌশল নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানান স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।পরে বিকালে দরদরিয়ায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কথা রয়েছে।

সিমিন হোসেন রিমি যে আসনে নির্বাচন করছেন সেই আসনে এবার বিএনপি থেকে নির্বাচন করছেন দলের সাবেক স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত হান্নান শাহর ছেলে শাহ রিয়াজুল হান্নান।এই দুই নেতার লড়াইটা ভালোই জমবে বলে মনে করছেন কাপাসিয়ার ভোটাররা।তাই বোনকে সহায়তা করতে দেশে এসেছেন সোহেল তাজ।

২০০৮ সালের নির্বাচনে গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সোহেল তাজ। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি সোহেল তাজ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেও ২০০৯ সালের ৩১ মে মন্ত্রিসভা থেকে আচমকা পদত্যাগ করেন। চলে যান সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে।

২০১২ সালের ৭ জুলাই সংসদ সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করেন। মাঝেমধ্যে সামাজিক কর্মকাণ্ডে উপস্থিত থাকলেও রাজনীতিতে যুক্ত হবেন না বলে তখন সাফ জানিয়ে দেন সাবেক এ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

সোহেল তাজ ফের আলোচনায় আসেন আওয়ামী লীগের সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিলে। তখন রাজনীতির অন্দরমহলে আলোচনা শুরু হয় যে, সোহেল তাজ রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন। ওই সময় তিনি দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন।

দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে সোহেল তাজকে আনা হচ্ছে এমন গুঞ্জনও শুরু হয়। তবে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে তাকে রাখা হয়নি।

ব্যক্তিগত জীবনে সোহেল তাজের এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে তুরাজ আহমদ তাজ লন্ডনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যারিস্টারি পাস করেছেন।সোহেল তাজ পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে থাকেন।

দিগন্ত.নেট:আ/বি/গো

মনোনয়ন বঞ্চিতদের উদ্দেশ্যে লেখা খোলা চিঠিতে যা লিখলেন প্রধানমন্ত্রী

পলিটিক্স ডেস্ক,দিগন্ত.নেট:আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থীদের খোলা চিঠি দিয়েছেন সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (৮ ডিসেম্বর) আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বিদ্রোহী প্রার্থীদের দেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খোলা চিঠি পৌঁছে দেন।

চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের বলেছেন, বিএনপি জামায়াতের হিংস্র থাবা থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করে বাংলাদেশকে টেকসই গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে আমরা সমমনা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের প্রাণপ্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়লাভ করে আবারও বাংলাদেশের জনগণের সেবা করার সুযোগ পাবে। সেই বিজয়ের অংশীদার হবেন আপনিও। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, আওয়ামী লীগ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে নৌকা মার্কাকে পরাজিত করার সাংগঠনিক শক্তি আর কারও নেই।

‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আশা করি, আগামী নির্বাচনে আপনার নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগ ও মহাজোট মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে আপনার সকল সাংগঠনিক দক্ষতা, শক্তি ও সামর্থ্য আওয়ামী লীগের বিজয়কে সুনিশ্চিত করবে।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশের গত এক দশকের অর্জিত উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সংগঠনের একজন আদর্শবান, ত্যাগী ও বিশ্বস্ত নেতা হিসেবে সর্বস্তরের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা ও সার্বিক কর্মকাণ্ডে আপনার স্বতঃস্ফূর্ত ও সক্রিয় অংশগ্রহণ একান্তভাবে প্রত্যাশা করছি।

এ সময় জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, লন্ডনে বসে দণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমান পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে বৈঠক করে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছেন।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে যখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, ঠিক তখনি আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, লন্ডনে বসে দণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমান পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার (আইএসআই) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে সন্ত্রাসী ও ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করে সন্ত্রাসী ও অরাজকতার সৃষ্টি সুগভীর ষড়যন্ত্রের পাঁয়তারা করছেন। এজন্য আমরা সর্তকতার সঙ্গে নির্বাচনী কার্যাক্রম পরিচালন করবো।

দিগন্ত.নেট:আ/বি/গো

বিএনপি কার্যালয়ে তালা, যা বললেন সেতুমন্ত্রী

পলিটিক্স ডেস্ক,দিগন্ত.নেট:আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে মনোনয়ন বঞ্চিতরা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের হামলা চালিয়েছেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের কোনো অভিযোগ নেই।

আজ শনিবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে নিজ নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার বাটইয়া ইউনিয়নের ছুন্নারদীঘি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে স্থানীয় লোকজনের সাথে দেখা করতে এসে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন। জনগণ তার সাথে নেই, তাই ককটেল ফাটিয়ে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন। মূলত তার দলের লোকজন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অন্যের উপর দোষ চাপাচ্ছে। তিনি নির্বাচনী শোডাউনের নামে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছ।

এ সময় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. এবিএম জাফর উল্যাহ, কবিরহাট পৌরসভার মেয়র জহিরুল হক রায়হান, কবিরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরুল আমিন রুমি, ডা. এ কেএম জাফর উল্যাহ, জেলা পরিষদ সদস্য আলাবক্স টিটুসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, চাঁদপুর-১ আসনে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলনকে মনোনয়ন না দেওয়ায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন তার সমর্থকরা।

শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তার পক্ষে স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা। পরে মিলনকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়ে নয়াপল্টন কার্যালয়ে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। এ সময় তারা তাদের দাবির স্বপক্ষে ‘প্রতিবাদ মিছিল’ লেখা একটি ব্যানার ফটকে ঝুলিয়ে দেন।

এর আগে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে দেখা করে ক্ষোভের কথা জানান সমর্থকরা। ওই আসনে মিলনের পরিবর্তে মালয়েশিয়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি।

দিগন্ত.নেট:আ/বি/গো

খালেদা জিয়া ও তারেককে নিয়ে যা বললেন জয়

পলিটিক্স ডেস্ক,দিগন্ত.নেট:বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানের নাইকো দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্টতা পরিষ্কার দাবি করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

জয় তার ফেসবুক পেজে শুক্রবার মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআই ও রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের সাক্ষ্য করা নথিসহ একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

এতে তিনি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই ও রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ নাইকো দুর্নীতি মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছে যা আমাদের দেশের আদালতে ইতোমধ্যে ফাইল করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য থেকে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নাইকো দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্টতা পরিষ্কার। সজীব ওয়াজেদ জয়ের ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত একটি স্টেটমেন্ট পোস্ট করা হয়।

২০০৮ সালের জানুয়ারিতে নাইকো দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত শুরু করেন এফবিআই। ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনুরোধের প্রেক্ষাপটে এফবিআই ওই তদন্ত শুরু করে।

২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সংস্থাটির আন্তর্জাতিক অর্থ পাচার ও সম্পদ উদ্ধার বিশেষজ্ঞ স্পেশাল এজেন্ট ডেবরা লাপ্রেভোটে গ্রিফিত চারবার বাংলাদেশ সফর করেন। ওই সময় ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেশন কমিটি অ্যাগেইন্সট গ্রিয়েভাস অফেন্সেসের (এনসিসিএজিও) সঙ্গে তিনি নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন।

বাংলাদেশি তদন্তকারীদের সঙ্গে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি কাজ করেছেন। তদন্ত কাজে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড ও কানাডা থেকে নথি সংগ্রহ করেছেন।

দিগন্ত.নেট:আ/বি/গো

কোনো বাড়ি নেই লতিফ সিদ্দিকীর

পলিটিক্স ডেস্ক,দিগন্ত.নেট:আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর কোনো বাড়ি নেই। এমনটিই জানা গেছে তার হলফনামা থেকে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ কালিহাতী আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী নির্বাচন করবেন। ইতোমধ্যে তার মনোনয়নপত্রও বৈধ হয়েছে।

সেই মনোনয়নপত্রের সাথে তিনি যে হলফনামা দিয়েছেন সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, তার নিজ নামে ৩৯ শতাংশ জমি রয়েছে। যার মূল্য ৩২ হাজার টাকা (১৯৯০ সাল)।

স্ত্রীর নামে পাঁচ দশমিক ২৮ একর জমি রয়েছে। যার মূল্য দুই কোটি টাকা। অকৃষি জমি এবং অর্জনকালীন সময়ে এক একর ৮৭ শতাংশ জমি রয়েছে। যার মূল্য ৬৫ লাখ টাকা।

তার স্ত্রীর নামে ছয় শতাংশ এবং সাত শতাংশ জমি রয়েছে। কিন্তু লতিফ সিদ্দিকীর কোনো বাড়ি, দালান, অ্যাপার্টমেন্ট, আবাসিক ও বাণিজ্যিক কোনো ভবন নেই। তবে তার স্ত্রীর একটি বাড়ি রয়েছে। এ ছাড়া অপর একটি বাড়ি নির্মাণাধীন রয়েছে।

লতিফ সিদ্দিকীর হলফনামা থেকে জানা যায়, তার নামে কোনো বাড়ি, দালান, দোকান বা বাণিজ্যিক কোনো ভবন নেই। ব্যবসা থেকেও তার বার্ষিক কোনো আয় নেই। তবে পেশা (শিক্ষকতা, লেখক সম্মানী) থেকে লতিফ সিদ্দিকীর বার্ষিক আয় দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য (ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত সুদ) ১৪ হাজার ৬৩৯ টাকা। লতিফ সিদ্দিকীর নিজ নামে নগদ অর্থ রয়েছে পাঁচ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৭ টাকা।

তার স্ত্রী ও ছেলের নামে কোনো নগদ টাকা নেই। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৯ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৯ টাকা। এমপি কোটা থেকে তার একটি টয়োটা জিপ গাড়ির মূল্য ৬৫ লাখ টাকা। তার স্ত্রীর ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। যার মূল্য ১০ হাজার টাকা (১৯৭৩ সালে বৈবাহিক সূত্রে প্রাপ্ত উপহার)।

ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মধ্যে ফ্রিজ ও টিভি রয়েছে। যার মূল্য ৭৫ হাজার টাকা। আসবাবপত্রের মধ্যে রয়েছে একটি সোফা, দুইটি খাট, ড্রেসিং ও ডাইনিং টেবিল রয়েছে, যার মূল্য ৫০ হাজার টাকা।

আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী কালিহাতী থেকে ১৯৭০ সালের আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য, ১৯৭৩, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় লাভ করেন। ২০০৮ সালে জয়ী হওয়ার পর মন্ত্রী হন।

সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনেও তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে টাঙ্গাইল সমিতি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হজ, মহানবী সা: ও তাবলিগ জামায়াত এবং প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে কটূক্তি করেন। দেশে ও বিদেশে তাকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন ও ইসলামিক সংগঠনগুলো লতিফ সিদ্দিকীর বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করে। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে ২২টি মামলা হয়। এর মধ্যে ১৭ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

পরে তিনি দেশে এসে আত্মসমর্পণ করেন। পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেল থেকে জামিনে মুক্তি পান। দেশব্যাপী তুমুল আন্দোলনের মুখে তার মন্ত্রিত্ব কেড়ে নিয়ে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এরপর ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি তার আসনে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী এমপি নির্বাচিত হন। ওই উপনির্বাচনে লতিফ সিদ্দিকীর ভাই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের সিদ্দিকী নির্বাচন করতে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও ঋণ খেলাপির কারণে তার প্রার্থিতা অযোগ্য ঘোষণা করেন উচ্চ আদালত।  

দিগন্ত.নেট:আ/বি/গো

ছাত্রলীগ নেতা রাকিব হত্যার নেপথ্যে যা জানা গেলো

পলিটিক্স ডেস্ক,দিগন্ত.নেট:রাজধানীর বনানীতে ছাত্রলীগের ওয়ার্ড সভাপতি রাকিব হত্যার নেপথ্যে প্রেমঘটিত দ্বন্দ¦ বলে ধারণা করছে পরিবার ও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তবে গত রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

জানা গেছে, রাকিব বনানী থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি পরিবারের সাথে কড়াইল টিঅ্যান্ডটি কলোনির ৫ নম্বর রোডের ৪০৬ নম্বর বাসায় থাকতেন।

গত বৃহস্পতিবার রাতে বাসার পাশেই তাকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় গতকাল সজিব ও জসিমের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে বনানী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা আলতাফ হোসেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, আসামি সজিবের স্ত্রীর নাম তাহমিনা আক্তার মিম। ২০১৫ সালে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের আগ থেকে মিমের সাথে নিহত রাকিবের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের পরও রাকিবের সাথে সে সম্পর্ক চালিয়ে যান মিম। পরে এ নিয়ে সজিব-মিম-রাবিকের সাথে একাধিকবার ঝগড়া-বিবাদ-কলহ হয়েছে। একাধিক সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) হয়েছে।

এই বিষয়টি অনেকেই জানত। কিন্তু কিছুতেই কোনো সমাধান হচ্ছিল না। কুলকিনারা করতে না পেরে এবং প্রেমের সম্পর্ক ধরে রাখতে চলতি বছরের জুনে মিম সজিবকে তালাক দেয়। সজিব মিমকে একাধিকবার বুঝিয়ে ফেরাতে চেষ্টা করে। কিন্তু মিম সজিবের ঘরে আর ফেরেনি। এতে সজিব ধারণা করেন রাকিবের কারণেই মিম কথা শুনছে না। এরই সূত্র ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।

বনানী থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) সাইহান ওলিউল্লাহ জানান, পূর্বশত্রুতার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে আহত নুরুল ইসলামের কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তা যাছাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই আবু তাহের ভূঁইয়া জানান, প্রেমঘটিত কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহতের বাবা আলতাফ হোসেন টিঅ্যান্ডটির লাইনম্যান। গত ১৭-১৮ বছরে ধরে তারা কড়াইল টিঅ্যান্ডটি কলোনির ওই বাসায় থাকছেন।

জানা গেছে, দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে রাকিব দ্বিতীয়। রাকিবের বড় ভাই তারেক হোসেন রনি একটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানিতে চাকরি করেন। দু’মাস আগে তিনি বিয়ে করেন। রাকিবের ছোট বোন দোলন স্থানীয় একটি কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ছে। আর রাবিক সরকারি তিতুমীর কলেজে এমবিএ ভর্তি হয়েছিলেন।

তিনি অবিবাহিত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের বিমানবন্দর থানার চন্দ্রপাড়ায়।

কত মানুষ, কত পুলিশ, কত সাংবাদিক আসছে; কিন্তু আমাদের রাকিব আসে না কেন বলে আহাজারি করছিলেন নিহতের খালা মাহমুদা খানম। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, কী অন্যায় করেছিল রাকিব যে, তাকে মারতে হবে। এত রাতে এসে এভাবে কুপিয়ে হত্যা করবে। এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।

নিহতের বেশ কয়েকজন বন্ধু জানান, ৮ ডিসেম্বর রাকিবের জন্মদিন ছিল। এ উপলক্ষে এক সপ্তাহ ধরে প্লান করে অনুষ্ঠান সাজাচ্ছিলেন তারা। বন্ধুদের সাথে বিষয়টি শেয়ার করেন। কিন্তু জন্মদিন পালনের আগেই পরপারে চলে গেলেন রাকিব। তিনি ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন বলেও তারা জানিয়েছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সুইপার মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন জানান, রাকিবের বাসার পাশে একটি খালি জায়গায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। ঘটনার সময় তিনি পাশেই কাজ করছিলেন। আল আমিনের চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে দৌড়ে আসেন। আল আমিনের মুখে কোপের আঘাত দেখে তিনি তার গামছা দিয়ে আক্রান্তস্থান বেঁধে ফেলেন। পরক্ষণেই পাশের বিদ্যুৎখুঁটির কাছে গোঙানির শব্দ পান।

দেখেন, সেখানে রাকিব পড়ে আছে। তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। সে বলছে, মা আমাকে বাঁচাও, বাবা আমাকে বাঁচাও। পরে তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল অন্ধকার থাকায় তিনি কাউকে দেখতে পাননি।

গতকাল কড়াইল টিঅ্যান্ডটি কলোনিতে গিয়ে দেখা গেছে, জুমার নামাজের আগে ঢামেক মর্গ থেকে ময়নাতদন্ত শেষে রাকিবের লাশ এলাকায় আনা হয়। পরে স্থানীয় জামিআ মুহাম্মাদিয়া ইসলামিয়া মসজিদে নামাজে জানাজার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মানুষের ঢল নামে। রাকিবের বাসায় গিয়ে দেখা যায়Ñ নিহতের স্বজন, সহকর্মী, সহপাঠী ও কড়াইল টিঅ্যান্ডটি কলোনির আশপাশের লোকজন আসছেন।

তারা নিহতের পরিবারের সদস্যদের শান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করছেন। এ সময় অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আমগাছে ঘেরা টিনের ঘরে থাকতেন রাকিব।

মসজিদ থেকে গলি ধরে কিছুটা পথ গেলেই রাকিবদের বাসা। তিনি তিনটি লাভবার্ড পালতেন। রাকিবের মৃত্যুতে পাখিগুলো যেন ছটফট করছিল। পরে তাদের অবমুক্ত করা হয়।

ঘটনাস্থল রাকিবের বাসা থেকে চার-পাঁচটি বাড়ির পর একটি ফাঁকা জায়গা। সেখানে গিয়ে দেখা যায় তিনটি রাস্তার মিলনস্থল এটি। এখানেই দুর্বৃত্তরা আগ থেকে ওঁৎ পেতে ছিলেন।

সেখানে বিদ্যুতের খুঁটির পাশে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ লেগে রয়েছে। রক্তের উপর কিছু আগাছা রাখা হয়েছে। সেখানে স্থানীয়দের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। তারা ঘটনাস্থল দেখছেন আর হতাশা প্রকাশ করছিলেন।

দিগন্ত.নেট:আ/বি/গো